নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: এসআইআরে মুর্শিদাবাদ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ যাচ্ছে বহরমপুর বিধানসভায়। যা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। মৃত ভোটারের পাশাপাশি যাঁরা অন্যত্র চলে গিয়েছেন এবং খোঁজ না মেলা ভোটারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি জেলা সদরেই। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুসারে, বহরমপুর বিধানসভায় ১৯হাজার ৩৫৫জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই সংখ্যা ২০হাজারের কাছাকাছি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএলওদের কাছ থেকে শেষ রিপোর্ট বা রেজ্যুলিউশন রিপোর্ট পাওয়ার পর বাতিল ভোটারের প্রাথমিক হিসেব চূড়ান্ত হবে। সেক্ষেত্রে আরও কিছু নাম বাতিল হবে বলেই মনে করছেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা।
বহরমপুর বিধানসভায় প্রায় ২০হাজার ভোটারের নাম বাদ গেলে আগামী নির্বাচনে ভোটের ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী বিজেপি প্রার্থী এবং কংগ্রেসের প্রার্থীর মধ্যে ২৭হাজার ভোটের ব্যবধান ছিল। বিজেপির সুব্রত মৈত্র ওরফে কাঞ্চন জয়ী হয়েছিলেন। দ্বিতীয় স্থানে কংগ্রেস ও তৃতীয় স্থানে ছিল তৃণমূল।
এসআইআর করে ভুয়ো এবং মৃত ভোটারদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করতে উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বহরমপুর বিধানসভায় জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত ভোটারের খোঁজ মেলায় রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ভোটার বাতিলের তালিকায় সবচেয়ে বেশি নাম রয়েছে বহরমপুরের। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সামশেরগঞ্জ। সেখানে বাতিল হয়েছে ১৬হাজার ৪০৪জনের নাম। তৃতীয় স্থানে রয়েছে সূতি বিধানসভা। সেখানে ১৫হাজার ৯৫৪টি নাম বাতিল হয়েছে। এছাড়া ফরাক্কায় ১৫হাজার ৬৯১জন ভোটারের নাম বাতিল হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী বিধানসভা এলাকাগুলিতে খোঁজ না মেলা ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলক কম। সবচেয়ে কম ভোটার বাতিল হয়েছে রানিনগর বিধানসভায়। সেখানে মাত্র ৮৫১৮জন ভোটারের কোনও হদিশ মেলেনি। তবে জানুয়ারি মাসে নতুন করে ভোটার হবেন ১৮ বছর বয়সিরা। তাঁদের ৬ নম্বর ফর্ম জমা দিতে হবে। সেক্ষেত্রে কিছু ভোটার বাড়বে।
তৃণমূল কংগ্রেসের বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, এসআইআর করতে গিয়ে বিজেপি খুব বিপদে পড়েছে। বহরমপুর বিধানসভা বিজেপিরই দখলে রয়েছে। আর এই বিধানসভাতেই কিনা সবচেয়ে বেশি অবৈধ ভোটার মিলেছে। এই ভোটে ভর করেই ওরা জিতেছে। গোটা রাজ্যেই বিজেপির আসন কমবে। অবৈধ এবং খোঁজ না মেলা ভোটারের সংখ্যা বেশি মানে, স্বাভাবিকভাবেই আগামী নির্বাচনে প্রভাব পড়বে। এখানে তৃণমূল ভালো ফল করবে। কংগ্রেস নেতা মহফুজ আলম ডালিম বলেন, এই সমস্ত ভুয়ো ভোটার সবসময় স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। মৃত এবং ভুয়ো ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় আগামী নির্বাচনে স্বাভাবিকভাবে প্রভাব পড়বে। এই বিধানসভা আসনে কংগ্রেসের জয়লাভের একটা ব্যাপক সুযোগ থাকছে। স্বচ্ছভাবে ভোট হলে আমাদের প্রার্থী জিতবেন।
পাল্টা বিজেপি নেতা লাল্টু দাস বলেন, বহরমপুর বিধানসভায় সবচেয়ে বেশি ভুয়ো ভোটার থাকাটাই স্বাভাবিক। তার কারণ এখানকার তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস বছরের পর বছর ধরে এই সমস্ত ভোট নিজেদের বাক্সে নিয়ে গিয়ে ফেলেছে। বিজেপিকে এই আসনে জিততে কোনও ভুয়ো বা মৃত ভোটারের ভোট ছাপ্পা মারতে হয়নি।