Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জমি দিয়ে চাকরি জোটেনি আত্মহত্যার চেষ্টা ২ যুবকের

২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে কয়লা খনি গড়তে তাঁদের জমি নিয়েছিল বিসিসিএল

জমি দিয়ে চাকরি জোটেনি আত্মহত্যার চেষ্টা ২ যুবকের
  • ৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কেন্দ্রীয় সংস্থা ভারত কুকিং কোল লিমিটেড (বিসিসিএল) অফিসে বারবার এসে জুতোর শুকতলা ক্ষয়ে গিয়েছিল ভোলানাথ গরাই, সুশান্ত কাপুরির। ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে কয়লা খনি গড়তে তাঁদের জমি নিয়েছিল বিসিসিএল। কথা ছিল, জমির বদলে চাকরি পাবেন। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও ছ’বছর চাকরি দেয়নি সংস্থা। উল্টে জুটেছে তাচ্ছিল্য। বুধবার বাধ্য হয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তাঁরা। বিসিসিএলের জেনারেল ম্যানেজারের চেম্বারের সামনে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন দু’জনেই। চূড়ান্ত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে কুলটি থানার বরাকরে। চলে আসেন পুলিসের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা। অফিসের মধ্যেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রমিক নেতারা। ‌঩জিএমকে গ্রেপ্তারের দাবি ওঠে। গভীর রাত পর্যন্ত জিএম সহ শীর্ষ আধিকারিকদের ঘিরে বিক্ষোভ চলে। পরে এক সপ্তাহের মধ্যে দু’জনের চাকরি দেওয়ার কথা কর্তৃপক্ষ লিখিত ভাবে দিলে আন্দোলন ওঠে। 

Advertisement

কুলটি থানার বড়িরার বাড়ি ভোলানাথ গরাইয়ের। সংসার বলতে মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান। বিসিসিএলের চাঁচভিক্টোরিয়া (সিভি) এরিয়ার দামাগোড়িয়া কোলিয়ারি প্রকল্প সম্প্রসারণ করতে ২০১৮ সালে তাঁর দু’একর জমি কিনেছিল বিসিসিএল। জমিহারা হিসেবে তাঁর চাকবি পাওয়া নিশ্চিতও করে সংস্থাটি। সেই আশায় দুই ছেলেকে বেসরকারি ‌ইং঩রেজি মাধ্যমে ভর্তি করিয়ে দেন। কিন্তু চাকরি আর জোটেনি। কোলিয়ারি অফিসে ছোটাছুটি করেও লাভের লাভ কিছু হয়নি। স্কুলের ফি দিতে পারছিলেন না। শেষে দুই ছেলেকে গ্রামের সরকারি স্কুলে ভর্তি করাতে বাধ্য হন। এখন ভোলানাথ রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ করেন। দিনমজুরি করেও সংসার চলছে না। তাই, চাকরি না পাওয়ার প্রতিবাদ করেই জীবন শেষ করে দিতে চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, সুশান্ত কাপুরির ছোট ব্যবসা ছিল। তা বিক্রি করে দিয়ে সেই টাকায় জমি কিনেছিলেন। সেটাও দিয়ে দেন। যাতে কোলিয়ারিতে কাজ পান। জমি গেলেও চাকরি হয়নি। 
এদিকে, দুই জমিহারার আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা রীতিমতো আলোড়ন ফেলেছে খনি অঞ্চলে। স্থানীয়দের দাবি, বড়িরা, সবণপুর এলাকার প্রায় ৫০ জন জমিদাতাকে চাকরি থেকে বঞ্চিত করেছে বিসিসিএল। জমির দাম না মিটিয়েই প্রায় দু’লক্ষ টন কয়লা তুলে নিয়েছে। বিপুল লাভ করেও স্থানীয়দের বঞ্চিত করা হচ্ছে। সিভি এরিয়ার এইচএমএস সম্পাদক শুভাশিস মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের এলাকা থেকে কয়লা উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করেছে সংস্থাটি। অথচ, চাকরি পাননি এলাকার বেকার যুবক-যুবতীরা। উন্নয়নও করেনি।’ 
বিসিসিএলের সিভি এরিয়ার জেনারেল ম্যানেজার শশীভূষণ কুমার বলেন, ‘জমি আগে নেওয়া হলেও কয়লা প্রজেক্ট শুরু হয়েছে এক বছর আগে। কোনও জটিলতার জন্য চাকরি দিতে বিলম্ব হচ্ছে। দ্রুত জমিহারাদের চাকরি দেওয়া হবে।’ জমিহারাদের চাকরি না পাওয়ার অভিযোগ শুধু কুলটি এলাকারই নয়, খনি অঞ্চলের জামুড়িয়া থেকে বারাবনি, পাণ্ডবেশ্বর থেকে অণ্ডাল সর্বত্র এমন বহু উদাহরণ রয়েছে। যাঁরা কেন্দ্রীয় সংস্থাকে জমি দিয়েও চাকরি পাননি। এবার তাঁদের নিয়ে আন্দোলনে নামছে তৃণমূল। শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, কুলটির ঘটনার খরব পেয়েই জিএমের সাথে যোগাযোগ করেছিলাম। আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।’
সিপিএমের জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আগামী ২ সেপ্টেম্বর জমিহারাদের দ্রুত চাকরি দেওয়ার দাবিতে ইসিএলের সদর দপ্তর ঘেরাও করব।’ বিজেপি জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন, ‘কোল ইন্ডিয়ার বিভিন্ন সংস্থার আধিকারিকদের একাংশ তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে যোগসাজোস করে বেনিয়ম করছেন। তাতে বদনাম হচ্ছে কেন্দ্রের। আমরা বিষয়টি কয়লা মন্ত্রীকে জানিয়েছি।’ -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ