Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এসি কোচে রিলাক্স মুডে ২ তরুণী, ব্যাগের ভিতর ভর্তি গাঁজা!

উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসের কোচ নম্বর এ-১। ঝকঝকে, তকতকে এসি কোচ। এলিট ক্লাসের যাত্রীরাই সাধারণত ওঠেন। সেই কামরায় একটু অন্যরকম সুবাস ভেসে বেড়াচ্ছে। কারও ভাল লাগছে।

এসি কোচে রিলাক্স মুডে ২ তরুণী, ব্যাগের ভিতর ভর্তি গাঁজা!
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান:  উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসের কোচ নম্বর এ-১। ঝকঝকে, তকতকে এসি কোচ। এলিট ক্লাসের যাত্রীরাই সাধারণত ওঠেন। সেই কামরায় একটু অন্যরকম সুবাস ভেসে বেড়াচ্ছে। কারও ভাল লাগছে। কেউ বা নাক সিঁটকাচ্ছেন। ট্রেন চলছে দ্রুত বেগে। গন্ধটা কিসের, তা নিয়ে ফিসফাস চর্চা চলছে যাত্রীদের মধ্যে। এরমধ্যেই কোনওভাবে খবর পেয়ে যায় আরপিএফ। দ্রুত চলে আসে কামরায়। ট্রেনটি তখন বর্ধমান স্টেশনে ঢুকতে কিছু সময় বাকি। গন্ধের উৎস তল্লাশি শুরু করে রেল পুলিশ। 

Advertisement

সামনের সিটে বেশ ‘রিলাক্স মুড’-এ বসে দুই সুন্দরী তরুণী। একজনের পরণে কালো জিনস। ছিপছিপে গড়ন। গায়ে ধূসর রংয়ের চাদর। অন্যজনের পরণে ধূসর জিনস। সাদা-কালো কুর্তি। কোলে পাঁচ বছরের সন্তান। প্রথমে তাদের চোখমুখ দেখে খানিক সন্দেহ আধিকারিকদের। কিন্তু, কিছু বলতে গিয়েও পিছিয়ে আসেন। সিটের পাশে থাকা দু’টি ব্যাগ রাখা। পুলিশ জানতে চাইলেন, ব্যাগ দু’টি কার? আর পাঁচজন সাধারণ যাত্রীর মতো দুই তরুণীও জবাব দেয়, ‘আমাদের।’ আরপিএফের এবার পাল্টা প্রশ্ন, ব্যাগ দু’টি চেক করতে চাই। 
দুই তরুণী তো কিছুতেই ব্যাগের চেন খুলতে দেবে না। কড়া আপত্তি জানায়। তাতে আরও সন্দেহ বাড়ে রেল পুলিশ অফিসারদের। এক রকম জোর করেই ব্যাগ খোলা হয়। চেন টানতেই চিচিং ফাঁক।  তাজ্জব আরপিএফ। ব্যাগ দু’টিতে থরে থারে সাজানো গাঁজার প্যাকেট। শুরু হয় দু’জনকে জেরা। পাশের সিটে বসে থাকা এক যুবকও জেরার মুখে পড়ে। তিনজনই স্বীকার করে নেয় গাঁজার ‘মালিক’ তারাই। ততক্ষণে ট্রেনটি ঢুকে পড়েছে বর্ধমান স্টেশনে। 
দু’টি ব্যাগ মিলিয়ে প্রায় ২২ কেজি গাঁজা বাজেয়াপ্ত করে রেল পুলিশ। গ্রেফতার করা তিনজনকেই। জেরায় তারা জানিয়েছে, বর্ধমানের একজনকে ডেলিভারি দেওয়ার কথা ছিল। টাকার বিনিময়ে ক্যারিয়ারের কাজ করছিল। ধৃত ১৮ বছরের যুবতী সোমা দে’র বাড়ি নিউ জলপাইগুড়ির ভক্তিনগরে। বাইশ বছরের নেহা দে নিউ জলপাইগুড়ির সূর্যসেন কলোনির বাসিন্দা। অন্যদিকে, ধৃত চন্দন সরকারের বাড়ি কোচবিহারের সেতাই এলাকায়। চন্দনই দুই তরুণীকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিয়োগ করেছিল। 
কোচবিহারের গাঁজার কদর বেশ ভালো দক্ষিণবঙ্গে। বেশি দামেও বিক্রি হয়। ওড়িশার এক কেজি গাঁজা এখানকার কারবারিরা ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা দরে কেনে। অথচ, কোচবিহারের গাঁজার দাম দ্বিগুণেরও বেশি। ছোট ছোট পুরিয়া করে বিক্রি হয় দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। এক একটির দাম পড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। বর্ধমানে নামানোর পর ওই বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিভিন্ন জায়গায় পাঠানোর কথা ছিল। আরপিএফ জানতে পেরেছে, ক্যারিয়ারের কাজ ধৃতরা আগে খুব বেশি করেনি। এবার প্রথম এত দূরে তারা গাঁজা সরবরাহ করতে এসেছিল। দুই তরুণীর মধ্যে একজন বিবাহিত। তার পাঁচ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। আরপিএফ যাতে সন্দেহ করতে না পারে তারজন্য শিশুটিকেও সঙ্গে রেখেছিল। এক আরপিএফ আধিকারিক বলেন, ‘বিলাসবহুল কোচে গাঁজা আনা হচ্ছে জানতে পেরেই সাতজনের একটি টিম তৈরি করা হয়। এই ধরনের কোচে কাউকে সন্দেহ হলেও তড়িঘড়ি পাকড়াও করা যায় না। তথ্য ভুল হলেই আরপিএফকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। তাই বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর বর্ধমান স্টেশনে ট্রেন ঢুকতেই তিনজনকে পাকড়াও করা হয়। দুই তরুণী প্রথম ক্যারিয়ারের কাজ করলেও তারা প্রশিক্ষিত।’  ধৃত তিন অভিযুক্ত।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ