নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সিউড়ি-২ পঞ্চায়েত সমিতির মহিলা পদাধিকারীকে শ্লীলতাহানি, মারধর ও খুনের চেষ্টার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধৃতদের নাম শেখ নওসাদ ও শেখ জাকির। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ধৃতরা স্থানীয় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত। মঙ্গলবার বিকেলে তাদের গ্রেপ্তার করেছে সিউড়ি থানার পুলিস। আজ, বুধবার ধৃতদের সিউড়ি আদালতে পেশ করা হবে। পাশাপাশি, এদিনই আদালতে নির্যাতিতা মহিলা পদাধিকারীর গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, আমি আইনের দ্বারস্থ হয়েছি। আইনের প্রতি আমার দৃঢ় বিশ্বাস আছে। আশা করছি, বাকি অভিযুক্তরাও অতি দ্রুত গ্রেপ্তার হবে।
আক্রান্ত মহিলার অভিযোগ, রবিবার বিকেলে বাড়ি ফেরার সময় তিনি রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে একজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেসময় বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর কয়েকজন তাঁর শ্লীলতাহানি ও মারধর করে। এমনকী, খুনের চেষ্টাও করে। ঘটনায় মোট ছ’জনের নাম উল্লেখ করে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। এদিকে ঘটনার পর থেকেই সকলেই গা ঢাকা দিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে পুলিস সাদা পোশাকে অভিযানে নামে। দিনভর তল্লাশি চালিয়ে এদিন বিকেলে দমদমা এলাকা থেকে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও বাকি চারজন এখনও পলাতক রয়েছে। ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিস জানিয়েছে, বাকি অভিযুক্তদের খুঁজে বার করতে তল্লাশি জারি রয়েছে। অতিদ্রুত সকলকেই গ্রেপ্তার করা হবে।
জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কেউ অপরাধ করলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনের কাজ আইন করবে। সেইসঙ্গে নির্দিষ্ট ব্লকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই এই বিষয়টি নিয়ে কোর কমিটিতে আলোচনা করা হবে।
প্রসঙ্গত, জেলার শাসকদলের অন্দরে বহুদিন আগেই ফাটল ধরেছে। তবে সিউড়ি-২ ব্লকে সেই ফাটল যথেষ্ট বড় আকার ধারণ করেছে। পৃথক দু’টি গোষ্ঠী রীতিমতো ভিন্নপথে চলছে। একাধিকবার একে অপরের বিরুদ্ধে কোন্দলেও জড়িয়েছে। এবার সিউড়ি-২ পঞ্চায়েত সমিতির মহিলা পদাধিকারীর শ্লীলতাহানির ঘটনাকে কেন্দ্র করেও সম্মুখ সমরে শাসকদলের দু’টি গোষ্ঠী। ঘটনায় ছাব্বিশের নির্বাচনের প্রাক্কালে জেলার শাসকদলের নেতৃত্ব যথেষ্টই অস্বস্তিতে পড়েছে।