সংবাদদাতা, লালবাগ: তিনজনের মধ্যে দুজন শিক্ষক গিয়েছেন ভোটার তালিকা সংশোধনের ট্রেনিং নিতে। স্কুলের ১৯৭ জন পড়ুয়াকে সামলানোর ভার হেড মাস্টারের উপর। ফলে লালগোলা দক্ষিণ চক্রের সাগিয়া নতুনপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিকেয় উঠেছে পড়াশোনা। মিড ডে মিল খেয়ে, হইচই করে বাড়ি ফিরে গিয়েছে কচিকাঁচারা। এতে ভয়ানক ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। ক্ষুব্ধ স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যও।
প্রথমে অবশ্য হেড মাস্টার সহ তিনজন শিক্ষককেই ট্রেনিয়ে তলব করা হয়েছিল। কিন্তু সবাই চলে গেলে স্কুল চালাবে কে, এই প্রশ্ন ওঠায় হেড মাস্টারকে ছাড় দেওয়া হয়। কিন্তু একজনের পক্ষে মিড ডে মিল খাইয়ে এত বাচ্চাকে সামলানো কি চাট্টিখানি কথা? নাকানিচোবানি খেয়েছেন হেড মাস্টার। লালগোলার বিডিও দেবাশিস মণ্ডল বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী শিক্ষকদের ট্রেনিংয়ে ডাকা হয়েছে। স্কুল চালাতে অসুবিধা হলে আমাকে বা এসআইকে লিখিতভাবে জানানো যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে পরে সুবিধামতো ট্রেনিংয়ে ডাকা যেতে পারে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সাইমুদ্দিন শেখ বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যা অনুযায়ী একজন, দু'জন কিংবা তিনজনকে তুলে নিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত। তিনজন শিক্ষকের মধ্যে দুজনকে তুলে নিলে পঠনপাঠন যে শিকেয় উঠবে সেটা প্রশাসনিক কর্তাদের বোঝা উচিত। স্থানীয় বাসিন্দা তথা অভিভাবক কাশেম আলি বলেন, এখন ভোটার তালিকার ট্রেনিংয়ের জন্য শিক্ষক তুলে নেওয়া হল। এর পর তালিকার কাজের জন্য শিক্ষকদের কাজে লাগানো হবে। এভাবেই গ্রামের স্কুল গুলিতে পঠনপাঠন লাটে ওঠে। কার্যত মিড ডে মিল খেয়ে কচিকাঁচারা বাড়ি ফেরে। এদিন যে পড়াশুনো হয়নি, সে কথা স্বীকার করে নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জনকৃষ্ণ ভাদুড়ী বলেন, দুজন শিক্ষক না থাকায় নিয়ম মাফিক ক্লাস করা যায়নি। কোনও রকম ভাবে ম্যানেজ করে পড়ুয়াদের ধরে রাখা হয়েছিল মাত্র। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিদ্যালয় চালাতে বলা হলেও বিএলও ট্রেনিংয়ে না যাওয়ার কারণে শোকজ করা হবে বলে ব্লক অফিস থেকে এদিন ফোন করা হয় বলেও মন্তব্য করেন আতঙ্কিত অঞ্জনবাবু।