নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: স্কুল যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে কংসাবতী নদীতে স্নান করতে নেমে নিখোঁজ হল দুই পড়ুয়া। নিখোঁজ দুই কিশোর পুরুলিয়া জেলা স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র বলে পুলিস জানিয়েছে। তাদের মধ্যে বিকাশ দাসের বাড়ি পুরুলিয়া শহরের চিড়াবাড়ি এলাকায়। অন্য পড়ুয়া মহম্মদ হামজা কুরেশির বাড়ি কসাইডাঙায়। দু’জনেরই বয়স ১৬ বছরের কাছাকাছি বলে দাবি পরিবারের। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা নাগাদ একই স্কুলের পাঁচ বন্ধু স্কুলে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। যদিও স্কুল কামাই করে তারা আসে শিমুলিয়ার কাছে কংসাবতী নদীতে। অন্যত্র সাইকেল রেখে পাঁচ পড়ুয়া দু’টি বাইকে করে এসেছিল বলে মনে করছে পুলিস। তারপর নদীর পাড়ে বাইক, ব্যাগ, জুতো, স্কুলের পোশাক রেখে তারা নদীতে স্নান করতে নামে। এদিন দুপুরে ওই পাঁচ বন্ধুর মধ্যে একজন বিকাশের পরিবারে ফোন করে জানায়, বিকাশ নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। খবর যায় থানায়। এরপরেই ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় পুলিস। যদিও সেখানে বন্ধুদের দেখা মেলেনি। পুলিসের অনুমান, ভয় পেয়ে বন্ধুরা পালিয়ে গিয়েছে। তবে, নদীর পাড়ে একটি বাইক রাখা ছিল। সেই বাইকের নম্বর ধরে পুলিস জানতে পারে, এই বাইকটি কসাইডাঙার বাসিন্দা পাপ্পু আনসারির। খবর দেওয়া হয় তাঁকেও। তিনি জানান, তাঁর ছেলে হামজা কুরেশি নিখোঁজ রয়েছে। হামজার বাবা বলেন, আমার ছেলে স্কুলে এসেছিল বলেই জানি। তবে, দুপুরে পুলিস ফোন করে জানায়, আমার বাইক নদীর পাড়ে রাখা আছে। তবে, ছেলের খোঁজ পাইনি। ছেলে সাঁতার কাটতেও পারে না। কী হল কিছুই বুঝতে পারছি না। এদিকে, পুলিসের তরফে খবর দেওয়া হয় বিকাশের পরিবারেও। তড়িঘড়ি পরিবারের সদস্যরা শিমুলিয়ায় কাঁসাই নদীর পাড়ে এসে পৌঁছন। কান্নায় ভেঙে পড়েন বিকাশের পরিবারের সদস্যরা। যুবকের জেঠিমা গীতা দাস, পিসিমসাই কাজল দাস বলেন, সকাল দশটার সময় ছেলেটা বাড়ি থেকে বেরিয়েছে। পরে খবর পাই যে ছেলেটা নাকি নদীর জলে ডুবে গিয়েছে। নিখোঁজদের খোঁজ পেতে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সাহায্য নিয়েছে পুলিস। তবে, বিকাশের জলে তলিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হলেও আর এক কিশোর আদৌ জলে তলিয়েছে কি না, সেব্যাপারে সন্দিহান পুলিস। পালিয়ে যাওয়া বাকি বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তার কিনারা পেতে চাইছে পুলিস। তবে সেইসব পড়ুয়ারা পালিয়ে যাওয়ায় পুলিসকে তদন্তে বেগ পেতে হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র



