Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ধুলিয়ানে হিংসায় মদতের অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ২ কর্ণধার গ্রেপ্তার

মুর্শিদাবাদের ওয়াকফ আন্দোলনের অশান্তির ঘটনায় এবার গ্রেপ্তার হল সামশেরগঞ্জের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (এনজিও) সভাপতি ও সম্পাদক। সোমবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ওই এনজিওর সভাপতি মোস্তাকিম শেখ ও সম্পাদক কাউসার আলিকে গ্রেপ্তার করে পুলিস।

ধুলিয়ানে হিংসায় মদতের অভিযোগে  স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ২ কর্ণধার গ্রেপ্তার
  • ১৮ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদের ওয়াকফ আন্দোলনের অশান্তির ঘটনায় এবার গ্রেপ্তার হল সামশেরগঞ্জের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (এনজিও) সভাপতি ও সম্পাদক। সোমবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ওই এনজিওর সভাপতি মোস্তাকিম শেখ ও সম্পাদক কাউসার আলিকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ধৃতদের মঙ্গলবার জঙ্গিপুর আদালতে পাঠানো হলে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে বিচারক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ধুলিয়ানের ডাক বাংলো মোড়ে জমায়েত করার অভিযোগ রয়েছে। তাদের নেতৃত্বেই ওয়াকফ আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিশোর ও যুবকরা হিংসাশ্রয়ী হয়ে ওঠে। জঙ্গিপুরের পুলিস সুপার অমিত কুমার সাউ বলেন, ওই ঘটনায় তদন্ত করে আমরা মোস্তাকিম এবং কাউসারের যোগ পেয়েছি। হাঙ্গামা পাকানোর জন্য তাদের কাছে অর্থ এসেছিল বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা। সিটের তদন্তেও সংশ্লিষ্ট এনজিও’র ‘নেতিবাচক’ ভূমিকা সামনে এসেছিল। এনজিও’র দুই কর্ণধারকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়। 

Advertisement

উল্লেখ্য, গত ১১ এবং ১২ ই এপ্রিল ওয়াকফ ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সামশেরগঞ্জ ও ধুলিয়ানসহ বেশ কিছু এলাকা। দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবে খুন হন হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস। ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১৩ জনের নামে চার্জশিট পেশ করা হয়। অপরদিকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ধুলিয়ানের অশান্তিতে ইন্ধন দেওয়ার  অভিযোগে শুলিতলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এনজিও’র সভাপতি ও সম্পাদককে। হাঙ্গামার ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে রয়েছেন সূতি এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রাজ্য সশস্ত্র পুলিসের (এসএপি) ৮ নম্বর ব্যাটালিয়নের গোটাটাই বারাকপুর থেকে সেখানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সোমবার এই সংক্রান্ত নির্দেশও জারি করা হয়েছিল। ব্যাটালিয়নের সমস্ত জওয়ান, অস্ত্রশস্ত্র এবং যানবাহন নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আপাতত আহিরনের একটি স্কুলে অস্থায়ী দপ্তর হচ্ছে এসএপি’র ৮ নম্বর ব্যাটালিয়নের।  
এনজিও’র দুই কর্ণধারের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, যারা চন্দন দাস ও হরগোবিন্দ দাসকে খুন করেছিল তখন হাজার হাজার লোক ছিল। তারা কারা? তারা কি ভারতীয় নয়? তারা সেকুলারিজমে বিশ্বাস করে না? পুলিস কী পারবে, ওই হাজার হাজার জনকে গ্রেপ্তার করতে! সুতরাং এই সমস্যার যেখানে সূত্রপাত সেখানে আঘাত হানতে হবে। প্রত্যেকটি জায়গায় ধর্মীয় জালসার নামে যে ধরনের সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলা হচ্ছে, সেগুলি বাংলা সংস্কৃতির জন্য ভালো নয়।  জঙ্গিপুরের তৃণমূল সাংসদ তথা জেলা তৃণমূলের সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, যে বা যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বা দোষ করেছে, পুলিস তদন্ত করে তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেবে। ঘটনার সময় থেকে আমরা মানুষকে শান্ত থাকার বার্তা দিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাতে দ্রুত সবকিছু স্বাভাবিক করা যায়, সেদিকে নজর দিয়েছি। কেউ যেন এখন এই ঘটনা নিয়ে রাজনীতি না করে, সেটাই দেখতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ