সংবাদদাতা, লালবাগ: সীমান্ত লাগোয়া লালগোলায় নতুন করে মাদক কারবারিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত একমাসে লালগোলা থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিস কারবারি ও পাচারকারী মিলিয়ে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ২ কেজি ৬৬৭ গ্রাম হেরোইন বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বাজেয়াপ্ত হেরোইনের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা। গত ১৭ জুলাই থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত লালগোলা থানার সাতটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ হেরোইন বাজেয়াপ্ত হয়।
১৭ জুলাই লালগোলা থানার বিলবোরা কোপরা পঞ্চায়েতের রামনগর গ্রামে ইসমাইল হকের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। ইসমাইল হক সহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ৮৩৭ গ্রাম হেরোইন বাজেয়াপ্ত করা হয়। ওই হেরোইন মণিপুর থেকে নিয়ে এসে বাড়িতে মজুত করে রাখা হয়েছিল। সুযোগমতো বাংলাদেশে পাচারের পরিকল্পনা ছিল। ২৫ জুলাই কৃষ্ণপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে ৩৫২ গ্রাম হেরোইন সহ এক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৪ আগস্ট বাংলাদেশে পাচারের আগেই দেওয়ানসরাই পঞ্চায়েতের শিতেশনগর শিরপাড়া মোড়ে ২৯৭ গ্রাম হেরোইন সহ এক কারবারি গ্রেপ্তার হয়। একটি বাইকে চেপে দু’জন সীমান্তের দিকে যাচ্ছিল।
পুলিস একজনকে পাকড়াও করতে পারলেও অপরজন পালিয়ে যায়। ৭ আগস্ট লিচুতলা এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিস দুই মহিলা কারবারি সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। বাড়ি থেকে ৩২৫ গ্রাম হেরোইন বাজেয়াপ্ত হয়। ধৃত দুই মহিলা বাড়িতেই হেরোইনের কারবার চালাচ্ছিল। ৯ আগস্ট দেওয়ানসরাই থেকে ২৮৬ গ্রাম হেরোইন সহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১১ আগস্ট রাতে কৃষ্ণপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে ২৬৭ গ্রাম হেরোইন সহ তিনজনকে এবং ১৩ আগস্ট গভীর রাতে মধুপুর সরকারপাড়া থেকে ৩০৩ গ্রাম হেরোইন সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। লালগোলায় নতুন করে মাদক কারবারিদের সক্রিয়তা জেলা পুলিস প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্তাদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
যদিও ভগবানগোলার এসডিপিও বিমান হালদার বলেন, লালগোলায় মাদক কারবারে রাশ টানতে আমাদের লাগাতার অভিযান চলছে। লালগোলাকে হেরোইন মুক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য। আশা করছি, খুব শীঘ্রই লক্ষ্য পূরণে সফল হব।
ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী প্রাচীন জনপদ লালগোলা। পদ্মা পাড়ের এই জনপদ একটা সময়ে হেরোইনের হাব হয়ে উঠেছিল। ভিনরাজ্য থেকে কাঁচামাল নিয়ে এসে লালগোলায় হেরোইন তৈরি হতো। লালগোলায় তৈরি হেরোইন পৌঁছে যেত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। অল্প সময়ে বিপুল অঙ্কের টাকা রোজগারের নেশায় সীমান্তের এলাকার অনেক যুবক মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ে। মাদক কারবারিরা পুলিস ও বিএসএফের চোখে ফাঁকি দিতে মোটা টাকার টোপ দিয়ে সীমান্তের প্রত্যন্ত এলাকার দুঃস্থ পরিবারের কিশোর ও মহিলাদেরও পাচারের কাজে নামায়। মাদক কারবারে রাশ টানতে পুলিস ও বিএসএফ ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে।
পুলিস ও বিএসএফের জালে অনেক মাদক কারবারি ও পাচারকারী পাকড়াও হয়। অনেকে গ্রেপ্তারি এড়াতে ভিন জেলা বা রাজ্যে গা ঢাকা দেয়। যা পুলিস প্রশাসনকে অনেকটাই স্বস্তি দিয়েছিল। কিন্তু, সম্প্রতি মাদক কারবারিদের বাড়বাড়ন্ত পুলিস প্রশাসনের কর্তাদের দুশ্চিন্তায় রেখেছে।