সংবাদদাতা, কাটোয়া: ডালা সাজিয়ে মঙ্গলবার সকালে ছটপুজো করতে পরিবারের সঙ্গে কাটোয়ায় ভাগীরথীতে এসেছিল দুই ভাই। গঙ্গায় স্নান করতে নেমে আচমকা ভাই তলিয়ে যায়। ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে দাদাও তলিয়ে যায়। বাবা-মায়ের চোখের সামনে দু’জনই তলিয়ে যায়। সারাদিন ধরে পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী নদীতে স্পিডবোট, ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি চালিয়েও সন্ধ্যা পর্যন্ত দু’জনের খোঁজ পায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ দুই ভাইয়ের নাম শিবম সাউ(২৫) ও সুজন সাউ(১৭)। কাটোয়ার ন্যাশনালপাড়ার বাসিন্দা শিবমের মেজ কাকার ছেলে সুজন। সে মুর্শিদাবাদের সালারে থাকে। সুজনই প্রথমে স্নান করতে নেমে তলিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে তলিয়ে যায় শিবমও। দু’জনকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন তাঁদের ছোট কাকা। কিন্তু ততক্ষণে স্রোতের টানে দু’জনেই তলিয়ে যায়। কাটোয়ার এসডিপিও কাশীনাথ মিস্ত্রি সহ পুলিশ বাহিনী স্নানঘাটে গিয়ে উদ্ধার কাজে তদারকি করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছটপুজো উপলক্ষ্যে এদিন দেবরাজ ঘাটে ব্যাপক ভিড় ছিল। ন্যাশনাল পাড়ার বাসিন্দা মনোজ সাউ, স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলে শিবমকে নিয়ে পুজো দিতে আসেন। তাঁদের সঙ্গে আসেন শিবমের কাকা রঞ্জিত সাউ, কাকিমা ও দুই ভাই সুজন ও আরুষ। শিবমের ছোট কাকা প্রসেনজিৎও পরিবারের সকলকে নিয়ে আসেন। পুজোর আগেই মনোজবাবু ছেলে শিবম ও ভাইপো সুজন ও ছোটো ভাই প্রসেনজিৎ স্নান করতে নামেন। আচমকা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সুজন তলিয়ে যায়। তার হাত ধরে বাঁচানোর চেষ্টা করে শিবম। কিন্তু স্রোতের টানে দু’জনেই তলিয়ে যায়। তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করেও পারেননি ছোট কাকা প্রসেনজিৎ। এরপরই স্নানঘাটে থাকা বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী সঙ্গে সঙ্গেই দু’জনকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি।
নদীর পাড়ে দুই ভাইয়ের বাবা ও মা কপাল চাপড়ে আর্তনাদ শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে ছটপুজোর আনন্দ শোকে পরিণত হয়। দু’জনের তলিয়ে যাওয়ার মর্মান্তিক দৃশ্য চোখের সামনে দেখে অনেকেই ভয়ে স্নানঘাট থেকে সরে আসেন। এরপরই সেখানে আসে কাটোয়া থানার পুলিশ। ছটপুজো উপলক্ষ্যে এদিন স্নানঘাটে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর পাশাপাশি সিভিক ভলান্টিয়ারও মোতায়েন ছিল। তাঁরাও দুই ভাইকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন।
নিখোঁজ দুই ভাইয়ের ছোট কাকা প্রসেনজিৎবাবু বলেন, আমি ভাইপোর হাতটা ধরেছিলাম। কিন্তু উদ্ধার করতে পারলাম না। এর থেকে দুঃখ আর কিছু নেই। ছটপুজো উপলক্ষ্যে বাড়িতে আত্মীয়স্বজন এসেছে। এক ধাক্কায় উৎসব শোকে পরিণত হয়ে গিয়েছে। নিখোঁজ সুজনের বাবা রঞ্জিত সাউ বলেন, আমরা তিন ভাই ছটপুজোয় পরিবারের সকলকে নিয়ে আনন্দ করব বলেই এদিনই সকালে সালার থেকে ছেলে, স্ত্রীকে নিয়ে কাটোয়া এসেছিলাম। চোখের সামনে ছেলেকে নদীতে ডুবে যেতে দেখলাম।
ন্যাশনালপাড়ার সাউ পরিবারে এদিন উৎসবের আলো নিভে গিয়েছে। শোকে ভেঙে পড়েছেন সকলে। শিবমের মা ভারতীদেবী মাঝেমধ্যেই কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। প্রতিবেশীরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।



