Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সস্তার সার নামী কোম্পানির বস্তায় ভরে বিক্রি, দুবরাজপুরে গ্রেপ্তার ২

খবর পেতেই দুবরাজপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাতকেন্দুরী এলাকায় অভিযান চালায় দুবরাজপুর থানার পুলিস।

সস্তার সার নামী কোম্পানির বস্তায় ভরে বিক্রি, দুবরাজপুরে গ্রেপ্তার ২
  • ২৬ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বাড়ি ভাড়া নিয়ে চলছিল সারের কালোবাজারি। খবর পেতেই দুবরাজপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাতকেন্দুরী এলাকায় অভিযান চালায় দুবরাজপুর থানার পুলিস। বৃহস্পতিবার গভীর রাতের ওই অভিযানে পুলিস দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ সার। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতরা হল শেখ আইনুল ও শেখ সাত্তার। তারা খয়রাশোল ব্লকের লোকপুর থানার বারাবন গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগ, সস্তার সার নামী কোম্পানির বস্তায় ভরে বিক্রি করা হতো। শুধুমাত্র বীরভূমের খোলা বাজার নয়, পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ডেও সেই সার রপ্তানি করা হতো। শুক্রবার ধৃতদের দুবরাজপুর আদালতে তোলা হয়।

Advertisement

সরকারি আইনজীবী রাজেন্দ্রপ্রসাদ দে বলেন, ধৃতদের বিরুদ্ধে সারের কালোবাজারির অভিযোগ ছিল। আদালত তাদের ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, সারের কালোবাজারি নতুন কোনও অভিযোগ নয়। চাষিদের চোখে ধুলো দিয়ে প্রায়শই সস্তার সার চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ উঠে। রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে এধরনের একাধিক অভিযোগ বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে এসেছিল। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি রাজ্য কৃষিদপ্তরের দুই আধিকারিক বীরভূম জেলায় পরিদর্শনে এসেছিলেন। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সারের দোকান পরিদর্শনের পাশাপাশি চাষিদের সঙ্গেও কথা বলেছিলেন। তার কিছুদিন বাদেই জেলার দুবরাজপুরে সারের কালোবাজারি কারবার চক্রের পর্দা ফাঁস হল। 
অভিযোগ, ধৃতরা অতিরিক্ত মুনাফার লোভে সস্তায় সার কিনে তা নামী কোম্পানির বস্তায় ভরে খোলা বাজারে বিক্রি করত। সেই কাজ চলত সাতকেন্দুরী এলাকার গোপন ডেরায়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই রাতের অভিযানে প্রায় ১৩৪ বস্তা সার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বস্তা সেলাই করার একটি মেশিনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়াও নামী কোম্পানির ৯৫টি খালি বস্তাও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সারের কালোবাজারি চক্রে আর কে বা কারা জড়িত রয়েছে তা খতিয়ে দেখতে দুবরাজপুর থানার পুলিস তদন্ত শুরু করেছে।
দুবরাজপুরের গোপন ডেরায় চলা সারের কালোবাজারির পর্দাফাঁস হতেই জেলার চাষিরা আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেছেন। অনন্ত মান্না বলেন, আমরা বছরভর চাষের কাজে যুক্ত থাকি। ব্যবসায়ীদের উপর ভরসা করেই সার কিনে থাকি। সেক্ষেত্রে হয়তো আমরাও কোনও না কোনও সময় সস্তার সার বেশি দামে কিনে প্রতারিত হয়েছি। এক্ষেত্রে জেলার কৃষিদপ্তরের কর্তাদের আরও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। অন্যথায় সস্তার সার কিনে তা ব্যবহারের জেরে ফসলের ক্ষতি হতে পারে। 
ঘটনা প্রসঙ্গে দুবরাজপুরের এডিএ মঙ্গল দাস বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। আমরাও সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছি। আর কোথাও এমন ঘটনা ঘটছে কি না, তা নিশ্চিত হতে নজরদারি বাড়ানো হবে। প্রয়োজনে দোকান থেকে সারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ