সংবাদদাতা, বালুরঘাট: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় বাল্যবিবাহ কোনওভাবেই রোখা যাচ্ছে না। ফের নাবালিকাকে উদ্ধার করে ১৯ বছর বয়সী পাত্রকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। দু’দিন আগে সে লুকিয়ে বিয়ে করেছে নাবালিকাকে। বিয়ে করে বাড়িতে দিব্যি করছিল সংসার। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পাত্রের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিস, প্রশাসন। কিন্তু মেয়েকে খুঁজতে নাকানিচোবানি খেতে হয় পুলিস ও প্রশাসনকে। অভিযোগ, পুলিস যাওয়ার খবর পেতেই ওই নাবালিকাকে পাত্রর বাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর গ্রামে একের পর এক পাত্রের ঘনিষ্ঠদের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিস। তবে নাবালিকাকে উদ্ধার করতে কালঘাম ছোটে পুলিসের।। এখানেই শেষ নয়, নাবালিকাকে উদ্ধারের পর ওই পরিবার পুলিস, প্রশাসনের সামনেই দাপাদাপি শুরু করে।
নাবালিকাকে বিয়ে করার দায়ে যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। পরিবারের বাকি সদস্যদের বিরুদ্ধেও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের হয়েছে। বালুরঘাট থানার আইসি সুমন্ত বিশ্বাস বলেন, এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা শুরু করে তদন্ত চলছে।
পুলিস সূত্রে খবর, ওই নাবালিকার বয়স ১৭ বছর। বালুরঘাট ব্লকের একটি গ্রামে ওই তার বাড়ি। বাবার মৃত্যু হয়েছে। তারপর মা দ্বিতীয় বিয়ে করায় মাসির বাড়িতে বড় হয়েছে নাবালিকা। দু’দিন আগে বালুরঘাট ব্লকের অমৃতখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি গ্রামের ১৯ বছর বয়সী এক যুবকের সঙ্গে ওই নাবালিকার লুকিয়ে বিয়ে হয়।
খবর পেয়ে পুলিস, চাইল্ড হেল্পলাইন এবং আইনি সহায়তা কেন্দ্রের পিএলভি কর্মীরা ওই পাত্রের বাড়িতে যান। পুলিস আসার আগাম খবর পেয়ে নাবালিকাকে লুকিয়ে রাখে পাত্রের পরিবার। অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর নাবালিকাকে উদ্ধার করার পাশাপাশি পাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি তার বাবা ও মায়ের নামে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে পুলিস।
দু’দিন আগেই দুই নাবালিকাকে বিয়ে করার অপরাধে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এমনকী এক নাবালিকার মাকেও গ্রেপ্তার করে বালুরঘাট থানার পুলিস।