নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রায় ১৮৩ কাঠা জমিতে হাসপাতাল হওয়ার কথা ছিল। তার বদলে গোটা জমিটাই জলের দরে প্রোমোটারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এমনই অভিযোগ তুলে নিশ্চিন্দায় পথে নামলেন বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূল সরকার ক্ষমতা ছাড়ার ঠিক আগে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার মাধ্যমে ওই জমি বেচে দেওয়া হয়। জমি ‘বিক্রি’র তদন্ত এবং সেখানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে সরকারি হাসপাতাল তৈরির দাবিতে রবিবার সন্ধ্যায় প্রতিবাদ মিছিল করলেন বাসিন্দারা।
এদিন ‘গ্যাসগ্রিড হাসপাতাল নির্মাণ কমিটি’র নেতৃত্বে নিশ্চিন্দা গার্লস স্কুল থেকে মিছিল শুরু হয়। সন্ধ্যার সময় মিছিলে পা মেলান এলাকার বহু বাসিন্দা। বিভিন্ন দাবি লেখা প্ল্যাকার্ড ও স্লোগান দিতে দিতে তাঁরা এগিয়ে যান গ্যাস ফ্যাক্টরির মাঠের দিকে। সেখানেই শেষ হয় প্রতিবাদ মিছিল। জমি প্রোমোটারের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদ জানান বাসিন্দারা। একই সঙ্গে তাঁদের দাবি, এতদিন ধরে পড়ে থাকা এই জমিতে আর কোনো বেসরকারি প্রকল্প নয়, অবিলম্বে সরকারি হাসপাতাল তৈরি করতে হবে। সংগঠনের সম্পাদক সুমন মিত্র-সহ স্থানীয় বাসিন্দারা এদিনের কর্মসূচিতে ছিলেন।
সংগঠনের সম্পাদক সুমন মিত্রের দাবি, এই জমির সঙ্গে এলাকার পুরানো ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। ১৯৬০ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় স্থানীয় মতিবাবু নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৮৩ কাঠা জমি কিনেছিলেন। বিধান রায়ের আমলে দুর্গাপুর থেকে গঙ্গার নীচ দিয়ে পাইপলাইনে আসা রান্নার গ্যাস এই জমিতে মজুত করা হত। পরে সেই ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। বাম আমলেও জমিটি সেভাবে ব্যবহার হয়নি বলে দাবি তাঁর।
সুমনবাবুর অভিযোগ, এরপর তৃণমূল জমানায় এই জমিতে সরকারি হাসপাতাল তৈরির প্রতিশ্রুতি সামনে আসে। নেতা-মন্ত্রীরা হাসপাতাল তৈরির কথা বললেও বাস্তবে তার কিছুই তৎপরতা দেখাননি তাঁরা। বরং তৃণমূল সরকার চলে যাওয়ার মাসখানেক আগে প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের জমি মাত্র ৯ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকায় এক প্রোমোটারের হাতে চলে যায় বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, স্থানীয় তৃণমূল নেতার মাধ্যমেই এই লেনদেন হয়েছে। বর্তমানে ওই জমিতে প্রোমোটারের কাজ চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, যে জমিতে হাসপাতাল হওয়ার কথা ছিল, সেই জমিই কীভাবে জলের দরে প্রোমোটারের হাতে চলে গেল, তার জবাব এলাকার মানুষ চাইছেন। বালির বিধায়কের নেতৃত্বে সাধারণ মানুষ এখানে সরকারি হাসপাতাল চান। প্রোমোটারের কাজ নয়, মানুষের স্বার্থে হাসপাতাল তৈরি করতে হবে। সেই দাবিতেই আমাদের আন্দোলন চলবে। নিজস্ব চিত্র