সংবাদদাতা, মালদহ: কালীপুজো উপলক্ষ্যে মেলায় জুয়া খেলা এবং চটুল নাচগানের আসরকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার। পরিস্থিতি সামলাতে বুধবার ভোররাতে ইংলিশবাজার থানার নরহাট্টা গ্রাম পঞ্চায়েতের জোতগোপাল গ্রামে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আটক করে ১৭ জনকে। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ওই এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের বিক্ষোভ সামলাতে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। আটক যুবকদের মুক্তির দাবিতে বুধবার সকালে ইংলিশবাজার থানার সামনে এসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন ওই এলাকার মহিলারা। তাঁদের দাবি, পুলিশ নির্দোষদের আটক করেছে। এমনকি যাঁরা ওই মেলার মঞ্চে সঙ্গীত পরিবেশন করছিলেন, তাঁদের কয়েকজনকেও আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই গ্রামে দীর্ঘদিন ধরেই কালীপুজো উপলক্ষ্যে মেলা বসে। এবার এলাকার যুবকরা মেলা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। মেলা উপলক্ষ্যে জুয়ার আসরও বসেছিল। অন্য এলাকা থেকে কিছু মানুষ জুয়া খেলতে এসেছিলেন ওই গ্রামে। পাশাপাশি চলছিল নাচগানের আসর। কিন্তু সেখানে উত্তেজক নৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশিত হচ্ছিল। নর্তকীদের সঙ্গে নাচ করার দাবি জানিয়ে কিছু মানুষ হুজ্জতি শুরু করেন। তাঁদের অনেকে অপ্রকৃতস্থ ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার বেধে যায় ওই গ্রামে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ গিয়ে কয়েকজনকে আটক করে।
এদিকে বিক্ষোভকারী মহিলাদের পাল্টা দাবি, পুলিশ ওখানে গিয়ে মেলা পণ্ড করার চেষ্টা করেছে। জুয়া খেলা বা অশ্লীল নাচগানের অভিযোগ ভিত্তিহীন। আলোর গেটও পুলিশ ভাঙচুর করে। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে নির্বিচারে লাঠিপেটা করা হয়েছে। নিরপরাধদের মুক্তির দাবিতেই তাঁরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল। পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। লাঠিচার্জের অভিযোগ ঠিক নয়। মালদহ (দক্ষিণ) জেলা বিজেপি সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের অভিযোগ, পুলিশ আগে দেখুক ইংলিশবাজার শহরে কতগুলি জুয়ার ঠেক চলছে। গ্রামের বাসিন্দাদের হেনস্তা করা হলে হাত গুটিয়ে বসে থাকব না। বিজেপি দরকারে লাগাতার ইংলিশবাজার থানা অবরোধ করবে।
অন্যদিকে, জেলা তৃণমূল সহ সভাপতি শুভময় বসুর মন্তব্য, আইনশৃঙ্খলার সমস্যা মেটাতে পুলিশকেই দায়িত্ব নিতে হয়।