সংবাদদাতা, বনগাঁ: গত ছ’মাসে বাগদা ব্লকে ১৬৭ জন নাবালিকা গর্ভবতী! বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকার কড়া মনোভাব নিলেও বাগদার এই পরিসংখ্যান খুবই উদ্বেগজনক। ব্লক স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিমাসে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন নাবালিকা গর্ভবতী হচ্ছেন। অল্প বয়সে সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে নানা শারীরিক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে মা ও সন্তানকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। তবে সরকারের কড়া বার্তা পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্যদপ্তর ও প্রশাসন।
সীমান্তবর্তী বাগদা ব্লকে বাল্যবিবাহের অন্যতম একটি কারণ দারিদ্র্য। অভাবের তাড়নায় অনেক বাবা-মা অল্প বয়সেই মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন। কিছুদিনের মধ্যেই গর্ভবতী হয়ে পড়ছেন সেই কিশোরী। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বাল্যবিবাহের প্রবণতা বেশি। অন্যদিকে বাগদায় গর্ভবতী নাবালিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার আরও একটি কারণ হল অনুপ্রবেশ। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অনুপ্রবেশকারী মহিলারা এদেশে এসে গোপনে বয়স কমিয়ে আধার কার্ড সহ পরিচয়পত্র তৈরি করছেন। পরবর্তীতে বিয়ের পর গর্ভবতী হয়ে পড়লে আধার কার্ডের তথ্য অনুযায়ী তাঁকে নাবালিকা হিসাবেই গণ্য করা হচ্ছে।
সম্প্রতি বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। নাবালিকাকে বিয়ে করলে তাদের স্বামীর বিরুদ্ধে পকসো আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা রুজু করছে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি সরকারি সুযোগ, সামাজিক ভাতা থেকেও বঞ্চিত করা হবে সেই আসামিকে। রাজ্য সরকারের এই নির্দেশের পর রাজ্যজুড়ে অভিযান শুরু হয়েছে। এবিষয়ে বাগদা ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক শুভ্রজ্যোতি মজুমদার বলেন, কোনো নাবালিকা গর্ভবতী অবস্থায় হাসপাতালে এলে আমরা পুলিশকে খবর দিই। আইন মেনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।