Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মারধরে অসুস্থ ১৬ ছাত্রী, সস্ত্রীক অভিযুক্ত গেস্ট টিচার, মারমুখী অভিভাবকরা, তপ্ত রামপুরহাটের স্কুল

রামপুরহাটের একটি মিশন স্কুলের আবাসিক ছাত্রীদের চুলের মুঠি ধরে মারধরের অভিযোগ উঠল স্কুলের এক শিক্ষক ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। তাঁর স্ত্রীও ওই স্কুলেরই শিক্ষিকা।

মারধরে অসুস্থ ১৬ ছাত্রী, সস্ত্রীক অভিযুক্ত গেস্ট টিচার, মারমুখী অভিভাবকরা, তপ্ত রামপুরহাটের স্কুল
  • ১৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাটের একটি মিশন স্কুলের আবাসিক ছাত্রীদের চুলের মুঠি ধরে মারধরের অভিযোগ উঠল স্কুলের এক শিক্ষক ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। তাঁর স্ত্রীও ওই স্কুলেরই শিক্ষিকা। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম খুরশেদ আলম ও তাঁর স্ত্রীর নাম মাসুমা আলম। দুজনেই স্কুলের অতিথি শিক্ষক। মারধর ও দুর্ব্যবহারের জেরে ছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। ১৬ জন ছাত্রীকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি পর্যন্ত করতে হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় জনতা খেপে ওঠে। তারা অভিযুক্ত শিক্ষককে মারতে ছুটে যায়। খবর পেয়ে বিশাল পুলিস বাহিনী এসে শিক্ষক ও তাঁর স্ত্রীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। দুজনকেই আটক করা হয়েছে। 

Advertisement

প্রায় ১৫ বছর ধরে রামপুরহাটের সুঁদিপুর মোড়ে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে ওই স্কুলটি চলছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রীরা এই স্কুলের হস্টেলে থেকে নিট ও মেডিক্যালের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেন। বর্তমানে এই মিশনে ৯০ জন ছাত্রী আছেন। স্থানীয় অভিজ্ঞ শিক্ষক শিক্ষিকারা ছাত্রীদের পড়ান। অভিযুক্ত খুরশেদ বায়োলজির ক্লাস নিতেন। কিন্তু কিছুদিন আগে ছাত্রীরা ম্যানেজমেন্টের কাছে লিখিতভাবে জানায়, তাঁরা খুরশেদ স্যারের ক্লাস করতে রাজি নন। দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী বলেন, ওই শিক্ষকের ব্যবহার এবং আচরণ ভালো নয়। পড়ানোর পদ্ধতিও ভালো নয়। তাই লিখিতভাবে ওই স্যারের ক্লাস করব না বলে আমরা ম্যানেজমেন্টকে জানাই। 
এরপরই বৃহস্পতিবার সস্ত্রীক ওই শিক্ষক স্কুলে আসেন। তখন ছাত্রীদের বায়োলজির ক্লাস নিচ্ছেলেন অন্য এক শিক্ষক। ছাত্রীদের অভিযোগ, খুরশেদ স্যার এসে বলেন, ক্লাস বন্ধ। এদিকে ছাত্রীরা ক্লাস করবে বলে দাবি তুলতে থাকেন। অভিযোগ, তখন ওই শিক্ষক চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন। দু’-একজন ছাত্রীর চুলের মুঠি ধরে মারধর শুরু করেন। যা দেখে বাকি ছাত্রীরা আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁরা কান্নাকাটির পাশাপাশি বমি করতে শুরু করেন। কারেও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তখন মিশনের ম্যানেজমেন্টের লোকেরা ওই ছাত্রীদের রামপুরহাট মেডিক্যালে ভর্তি করে। এদিকে একের পর এক ছাত্রীকে অসুস্থ হয়ে বেরিয়ে আসতে দেখে স্থানীয়রা খোঁজখবর করে বিষয়টি জানতে পারেন। তখন তাঁরা মারমুখী হয়ে ওঠেন। বাড়ির মালিক মহম্মদ ডালিম মিশনের দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন বলে দাবি করে জানান, খুরশেদ আলম যখন তখন মিশনে এসে ছাত্রী ও ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে ঝামেলা করেন। উনি মিশনের কোনও একটি পদে থাকতে চান। কিন্তু মিশন কর্তৃপক্ষ ছাড়া কেউ এটা করতে পারে না। এদিন এসে মেয়েদের ক্লাস করতে দেননি। মেয়েদের চুল ধরে ঝাঁকিয়েছেন। যা মোটেই উচিত হয়নি। 
ছাত্রীরা বলেন, আমরা বহু দূর থেকে এখানে পড়াশোনা করতে এসেছি। কিন্তু আমাদের সঙ্গে এরকম আচরণ করলে তো অভিভাবকরা চিন্তায় পড়ে যাবেন। যদিও মাসুমা আলম বলেন, ছাত্রীরাও আমাকে মেরেছে, তার প্রমাণ রয়েছে। 
মিশনের সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রীরা ওই অতিথি শিক্ষকের ক্লাস করতে চাইছেন না। আর ওই শিক্ষক ক্লাস নিতে চান। এই নিয়েই সমস্যা। তবে এটা স্কুলের আভ্যন্তরীণ বিষয়। ভুল বোঝাবুঝি থেকে এটা হয়েছে। ওই শিক্ষকেরও বোঝা উচিত ছিল যেটার জন্য উনি অভ্যস্ত নন, সেটা চাইলেই তো দেওয়া যায় না। ছাত্রীরাও তো ভালো শিক্ষেকর কাছে পড়তে চাইবে। উনি বয়স্ক, মাথা গরম করে ফেলেছেন।   স্কুলের সামনে পুলিস ও স্থানীয়রা। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ