Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চলতি বছরে সাপের কামড়ে ১৬ জনের মৃত্যু, চন্দ্রবোড়ার ছোবল ঠেকাতে গামবুট ভরসা চাষিদের

চন্দ্রবোড়া সাপের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বাঁকুড়ার আমন চাষিরা। খেতখামারে ওই বিষধর সাপের সংখ্যা হঠাৎ করে বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষিরা বিপাকে পড়েছেন।

চলতি বছরে সাপের কামড়ে ১৬ জনের মৃত্যু, চন্দ্রবোড়ার ছোবল ঠেকাতে গামবুট ভরসা চাষিদের
  • ৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: চন্দ্রবোড়া সাপের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বাঁকুড়ার আমন চাষিরা। খেতখামারে ওই বিষধর সাপের সংখ্যা হঠাৎ করে বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। সাপের কামড় থেকে রেহাই পেতে চাষি ও খেতমজুররা গামবুট পরে মাঠে যাতায়াত করছেন। ওই জুতো পরলে হাঁটু পর্যন্ত ঢাকা থাকছে। তারফলে সাপ পায়ে কামড় বসালেও রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে। 

Advertisement

বাঁকুড়া-২ ব্লকের নড়রা গ্রামের চাষি গোবর্ধন ব্রহ্মচারী, গৌতম ব্রহ্মচারী বলেন, গ্রামেগঞ্জে সাপখোপের উৎপাত ছিলই। তবে গত কয়েকবছরে চন্দ্রবোড়া সাপের উপদ্রব ব্যাপক বেড়ে গিয়েছে। খেতখামারের পাশাপাশি বাড়িতেও ওই বিষধর সাপ ঢুকে পড়ছে। কয়েকদিন আগে গ্রামের নামোবাজার এলাকার এক চাষিকে সাপে কামড়েছিল। তবে সেভাবে বিষ ঢালতে না পারায় তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। সাপের কামড় থেকে রক্ষা পেতে গ্রামের চাষিরা গামবুট পরে মাঠের কাজে যাচ্ছেন। বাঁকুড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শ্যামল সোরেন বলেন, এবছর এখনও পর্যন্ত জেলায় সাপের কামড়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্পদংশনের পর রোগীকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। অনেকে তা না করে, ওঝার কাছে নিয়ে গিয়ে ঝাড়ফুঁক করায়। কৃত্রিম মেধার(এআই) যুগেও অনেকে কুসংস্কারে বিশ্বাস করেন। তাঁদের জন্যই বহু মানুষের মৃত্যু হয়। জেলার প্রতিটি ব্লকেই পর্যাপ্ত অ্যান্টি ভেনম রয়েছে। সাপে কাটা রোগীকে দ্রুত তা দেওয়া গেলে জীবনহানির আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যায়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রোটিন ও উৎসেচক সহ অন্যান্য কয়েকটি উপাদানের জটিল মিশ্রণ হল সাপের বিষ। যা সাপের লালা হিসেবেই গণ্য করা হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে সাপের বিষ মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে। মানব শরীরে বিষের প্রতিক্রিয়াও আলাদা আলাদা। কেউটে, গোখরো, কালাচের মতো সাপের বিষ ‘নিউরোটক্সিক’। বোড়া সাপের বিষ ‘হেমোটক্সিক’। প্রথম প্রকারের বিষ মানুষ তথা প্রাণির নার্ভাস সিস্টেমকে অকেজো করে দেয়। দ্বিতীয় প্রকারের বিষের প্রভাবে রক্ততঞ্চন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এছাড়াও সাপের বিষ মাংসপেশির উপরেও ক্রিয়া করে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ