নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: গত ১০ বছরে গোরুমারা জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় হাতির হামলায় মৃত্যু হয়েছে ১৫৯ জনের! ফলে হাতি-মানুষের সংঘাত এবং তার জেরে মৃত্যু ঠেকানোই এখন অন্যতম চ্যালেঞ্জ বনদপ্তরের।
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: গত ১০ বছরে গোরুমারা জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় হাতির হামলায় মৃত্যু হয়েছে ১৫৯ জনের! ফলে হাতি-মানুষের সংঘাত এবং তার জেরে মৃত্যু ঠেকানোই এখন অন্যতম চ্যালেঞ্জ বনদপ্তরের।
বনদপ্তর সূত্রে খবর, গোরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন এলাকায় গত এক দশকে হাতির হামলায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে। সেবছর হাতির হামলায় প্রাণ হারান ২৫ জন। ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে হাতির হামলায় গোরুমারায় মৃত্যু হয় ১৯ জনের। ২০২০-২২ দু’বছরে ১৭ জন করে মোট ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। একইভাবে ২০১৭-১৯ দু’বছরে ১৪ জন করে ২৮ জনকে পিষে মারে দাঁতাল। এছাড়াও ২০১৫-১৬ সালে হাতির হামলায় মৃত্যু হয় ১১ জনের। পরের বছর দাঁতালের হামলায় প্রাণ হারান ১৫ জন। ২০২২-২৩ আর্থিক বছরে লোকালয়ে হাতির হামলায় মৃত্যু হয় ১৫ জনের। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরেও ১২ জনের প্রাণ গিয়েছে। যদিও চলতি আর্থিক বছরে হাতি-মানুষের সংঘাত অনেকটাই রুখে দিতে পেরেছে গোরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগ। ফলে মৃত্যুর ঘটনাও কমেছে।
ডিএফও দ্বিজপ্রতিম সেন বলেন, চলতি আর্থিক বছরে এখনও পর্যন্ত গোরুমারা জাতীয় উদ্যান লাগোয়া এলাকায় হাতির হামলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। হাতি-মানুষের সংঘাত এবং তার জেরে মৃত্যু ঠেকানোই আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ। সেজন্য গ্রামবাসীদের লাগাতার সচেতন করা হচ্ছে। মাইকিং চলছে। গ্রামবাসীদের নিয়ে তৈরি ভলান্টিয়ারি এলিফ্যান্ট স্কোয়াড যেমন কাজ করছে, তেমনই বনদপ্তরের র্যাপিড রেসপন্স টিমও সারাক্ষণ হাতির গতিবিধির উপর নজরদারি চালাচ্ছে।
গোরুমারা জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতে হাতির হামলা নতুন নয়। কখনও পাকা ধানের লোভে, কখনও আবার ভুট্টার টানে জঙ্গল থেকে লোকালয়ে হাতি ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটে। এখন আবার কাঁঠালে পাকার সময়। ফলে পাকা কাঁঠালের টানেও জঙ্গল থেকে হাতি বেরিয়ে আসার ঘটনা বেড়ে যায়। বনদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, অনেক সময় মদের গন্ধেও হাতি জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে। সেকারণে জঙ্গলের ধারেকাছে কোথাও যাতে চোলাইয়ের ভাটি না থাকে, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। পুলিসের সঙ্গে যৌথভাবে লং পেট্রোলিং ডিউটি চলছে।
বন আধিকারিকদের দাবি, লোকালয়ে কোথাও হাতি ঢুকে পড়লে এলাকার বাসিন্দারা যাতে তাদের বিরক্ত না করেন, নিজেরা হাতি তাড়ানোর চেষ্টা না করে যাতে দ্রুত বনদপ্তরকে খবর দেন কিংবা হাতি দেখে নিজেরা ছবি, সেলফি তোলার হিড়িকে মেতে না ওঠেন, সেব্যাপারে সচেতন করা হচ্ছে। এটুকু করতে পারলেই হাতির হামলায় মৃত্যুর ঘটনা পুরোপুরি রুখে দেওয়া সম্ভব হবে।