সংবাদদাতা, কান্দি: অধিগ্রহণ করা হয়েছে প্রায় ১৫ বছর আগে। তবুও বড়ঞা ব্লকের মুনিয়াডিহি গ্রামের বৌদ্ধস্তূপ বলে পরিচিত উঁচু ঢিবির খনন কার্য চালায়নি পুরাতত্ত্ব বিভাগ। এতে হতাশ স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত খননকার্য চালানোর দাবি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইছেন তাঁরা।
ওই ব্লকের মুনিয়াডিহি গ্রামের পশ্চিমে জটাধারী মন্দিরের পাশেই কয়েক একর জায়গা জুড়ে রয়েছে একটি উঁচু জায়গা। যেটিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বৌদ্ধস্তূপ বলে মনে করেন। এমনকী ইতিহাস সূত্রেও ওই উঁচু জায়গাটিকে বৌদ্ধস্তূপ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার এটিকে জৈনস্তূপ বলেও অনেকে দাবি করেন।
২০১০ সালে পুরাতত্ত্ব বিভাগ এই জায়গা অধিগ্রহণ করে কয়েকদিন খননকার্য চালায়। ওই সময় সংরক্ষিত জায়গায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে একটি সাইনবোর্ড ঝোলানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে এই স্থানের ধ্বংসসাধন, অপসারণ, ক্ষতি, পরিবর্তন, বিকৃতি করা হলে জেল এবং জরিমানা হবে।।
কিন্তু এরপর ওই জায়গার আর কোনও খননকার্য চালানো হয়নি। এমনকী পরবর্তী সময়ে পুরাতত্ত্ব বিভাগের কর্মীদের সেখানে আসতেও দেখা যায়নি বলে দাবি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম হতাশ। পাঁচথুপী নাগরিক মঞ্চের সম্পাদক অজিত কুমার লাহা বলেন, পাঁচথুপী গ্রামের পঞ্চস্তূপের মধ্যে এটি হল শেষস্তূপ। এখানে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা থাকতেন বলে ইতিহাসে প্রমাণিত। এমনকী এই জায়গার সামান্য মাটি সরালে ছোট ইটের টুকরো দেখা যায়। আমরা চাই পুরাতত্ত্ব বিভাগ এই জায়গায় খননকার্য চালিয়ে আমাদের সামনে ইতিহাস বিস্তারিত করুক। আমরা সব ধরনের সাহায্যের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। আমরা রাজ্য সরকারেরও হস্তক্ষেপ চাইছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই জায়গাটি সংরক্ষণ করা হলেও এর সীমানা প্রাচীর পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র একটি বোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। যার ফলে সম্প্রতি সকলের অবাধ বিচরণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে এটি। এমনকী সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত এখানে আড্ডাখানাও চলে। সন্ধ্যার পর ভদ্রসমাজের মানুষ সেখানে যেতে পারেন না। বাসিন্দা মৌমিতা ধর বলেন, ইতিহাসে বলে এই জায়গায় বৌদ্ধ মুনি-ঋষিরা থাকতেন। যে কারণে এই গ্রামের নামকরণ হয়েছে মুনিয়াডিহি। এমনকী এই জায়গার সঙ্গে বাংলার রাজা শশাঙ্কের নামও জড়িত। তাই আমরা চাইছি পুরাতত্ত্ব বিভাগ দ্রুত এর খননকার্য শুরু করে ইতিহাস তুলে ধরুক। এই স্থান বহু ইসিহাসের সাক্ষী রয়েছে বলে পূর্ব পুরুষদের কাছে শোনা।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য সুখেনকুমার বাগদি বলেন, আমরা দলীয়ভাবে কেন্দ্র সরকারের কাছে এই জায়গার খননকার্য চালানোর অনুরোধ রাখব। তৃণমূলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে ওই জায়গায় খননকার্য চালানোর অনুরোধ করছি পুরাতত্ত্ব বিভাগের কাছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিজেও মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করব। তবে পুরাতত্ত্ব বিভাগ জেলার বহু জায়গা এভাবে অধিগ্রহণ করে খননকার্য বন্ধ করে রেখেছে। যার ফলে মানুষ ইতিহাস জানা থেকে বঞ্চিত হয়ে রয়েছেন।