সংবাদদাতা, হলদিয়া: হলদিয়াজুড়ে চুরি বাড়তে থাকায় অতিষ্ঠ সাধারণ বাসিন্দারা। গৃহস্থ বাড়ি থেকে দোকান, মন্দির, কারখানার যন্ত্রপাতি ও দামি সরঞ্জাম চুরি করতে দিনদুপুরেই দুষ্কৃতীরা হানা দিচ্ছে বলে অভিযোগ। কয়েকটি পরিবারের কয়েক লক্ষ টাকার সোনার গয়না চুরি গিয়েছে বলে পুলিশে অভিযোগ হয়েছে। হলদিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টারে পুলিশ চৌকির পাশেই দোকানের তালা ভেঙে চুরি হয়েছে। একের পর এক শিল্পসংস্থাও তাদের কারখানা চত্বর থেকে চুরির অভিযোগ করেছে। হলদিয়া শহর লাগোয়া এলাকা মিলিয়ে পাঁচটি থানা এলাকায় ব্যাপকহারে চুরি হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। গত দু’ সপ্তাহে প্রায় ১৫টি চুরির অভিযোগ জমা পড়েছে থানাগুলিতে। এরমধ্যে কয়েকটি বড়সড় চুরি হয়েছে সুতাহাটা, ভবানীপুর ও দুর্গাচক থানা এলাকায়। ওই ঘটনায় পুলিশের নজরদারি ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুতাহাটা থানা এলাকাতেই এক সপ্তাহের মধ্যে পর পর তিনটি বড়সড় চুরি হয়েছে। তিনটি বাড়ি থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার সোনারুপোর গয়না চুরি গিয়েছে বলে অভিযোগ। প্রথম চুরির ঘটনা সুতাহাটার গোরাণখালির শেখ আবুল বাশারের বাড়িতে। তাঁর বাড়িতে স্টিলের আলমারি ভেঙে ১৬ লক্ষ টাকার সোনার গয়না ও ফিক্সড ডিপোজিটের কাগজপত্র চুরি গিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ দায়ের করেছেন। দ্বিতীয় চুরিটি হয়েছে সুতাহাটার তাজনগরের ফতেপুর গ্রামে শেখ আব্দুল মতিনের বাড়িতে। তাঁর বাড়ি থেকেও কয়েক লক্ষ টাকার সোনার গয়না চুরি গিয়েছে বলে তিনি পুলিশে অভিযোগ করেছেন। তিনি হলদিয়ার একটি শিল্প সংস্থায় সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করেন। তৃতীয় চুরির ঘটনা ঘটেছে সুতাহাটার কৃষ্ণনগরে শেখ মোয়াজ্জেম হোসেনের বাড়িতে। ওই তিনটি ক্ষেত্রেই বাড়ির বাসিন্দারা আত্মীয় বাড়ি বা অন্য কোথাও গিয়েছিলেন। সেই সুযোগ নিয়েছে দুষ্কৃতীরা। অন্যদিকে, ভবানীপুর থানার বাড়উত্তরহিংলিতে দিনদুপুরে স্বপন সাহু নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে দুষ্কৃতীরা হানা দিয়ে ২৫০ গ্রাম সোনা, নগদ ২৫ হাজার টাকা ও একাধিক পাশবই চুরি করেছে বলে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। স্বপনবাবু সোনার বন্ধকী কারবার করেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ ওই ঘটনায় তদন্ত করছে।



