Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাদেশি সন্দেহে হরিয়ানা পুলিসের হাতে আটক, সাংসদের উদ্যোগে মুক্তি পেলেন চাপড়ার ১৫জন পরিযায়ী শ্রমিক

বাংলাদেশি সন্দেহে হরিয়ানায় নদীয়া জেলার ২১ জন পরিযায়ী শ্রমিককে আটকে রাখা হয়েছিল। যার মধ্যে শুধু চাপড়া থানা এলাকার ১৫ জন পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন।

বাংলাদেশি সন্দেহে হরিয়ানা পুলিসের হাতে আটক, সাংসদের উদ্যোগে মুক্তি পেলেন চাপড়ার ১৫জন পরিযায়ী শ্রমিক
  • ২০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বাংলাদেশি সন্দেহে হরিয়ানায় নদীয়া জেলার ২১ জন পরিযায়ী শ্রমিককে আটকে রাখা হয়েছিল। যার মধ্যে শুধু চাপড়া থানা এলাকার ১৫ জন পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। তাঁদের বাড়ি বাঙালঝি এলাকায়‌। বিষয়টি জানাজানি হতেই কৃষ্ণনগর লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র তাঁদের ফেরানোর উদ্যোগ নেন। শনিবার চাপড়ার পরিযায়ী শ্রমিকদের মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।‌ বাকি ছ’জন নাকাশিপাড়ার বাসিন্দা। কালীগঞ্জ, তেহট্ট, করিমপুরের পর এবার চাপড়ার পরিযায়ী শ্রমিকদেরও বাংলাদেশি সন্দেহে আটকে রাখার মতো ঘটনা ঘটেছে। যা নিয়ে সরব হয়েছে ঘাসফুল শিবির। 

Advertisement

হরিয়ানায় কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান  চাপড়ার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ১৫ জন পরিযায়ী শ্রমিক। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ বছর ধরে হরিয়ানায় ভাঙা লোহা-লক্কর কেনাবেচা করছিলেন চাপড়ার বাঙালঝির চারজন সহ বেদবেড়িয়া, গোয়ালডাঙা ও বড় বালিডাঙা গ্রামের আরও কয়েকজন। অভিযোগ, চার দিন আগে হঠাৎ করেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারেন, হরিয়ানার পুলিস তাঁদের আটক করেছে। পরিবারের অভিযোগ, শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য তাঁদের বাংলাদেশি সন্দেহে তুলে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড সহ নানা সরকারি পরিচয়পত্র দেখালেও ওখানকার পুলিস কোনও গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ। পরে চাপড়া থানার পুলিসের সহায়তায় ওই সমস্ত নথিপত্র হরিয়ানায় পাঠানো হয়। সেইসঙ্গে সাংসদ মহুয়া মৈত্র বিষয়টি জানার পর সঙ্গে সঙ্গে হরিয়ানার পুলিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁদের সেখানে মুক্তি দেওয়ানোর ব্যবস্থা করেন।‌ তিনি বলেন, হরিয়ানার পুলিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। শনিবার ১৫ জন শ্রমিক মুক্তি পেয়েছে। পুলিসের তরফ থেকেও ভেরিফিকেশন রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকরা কেউ অবৈধ নয়। তাঁদের সকলের কাছেই বৈধ নথি রয়েছে। তাঁরা যে কাজ করছিলেন তাও করতে পারবেন। চিন্তার কোনও কারণ নেই।‌
আটক পরিযায়ী শ্রমিক সুবুর আলি শেখের ছেলে বলেন, বাবা ১৫ বছর ধরে হরিয়ানাতেই কাজকর্ম করেন। এতদিন কোনও সমস্যা হয়নি। বাবা কিছুদিন আগেই হরিয়ানায় কাজ করতে ফিরে যান। তারপর পুলিস বাবাকে তুলে নিয়ে যায়। তিন দিন ধরে কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। চাপড়া ব্লক তৃণমূল সভাপতি শুকদেব ব্রক্ষ্ম বলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যে আমাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি সন্দেহে হেনস্তা করা হচ্ছে। আমাদের সরকার ওদের পাশে আছে। পাশাপাশি নাকাশিপাড়া থানা এলাকার ছ’জন পরিযায়ী শ্রমিক সেই হরিয়ানাতেই আটকে রয়েছেন। যাঁর মধ্যে পেটুয়াভাঙা এলাকার তিন জন, রাজাপুর এলাকার দু’জন এবং জালসুকরা এলাকার একজন পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। তাঁদের পরিচয় ভেরিফিকেশন পুলিসের তরফে হরিয়ানায় পাঠানো হচ্ছে।  -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ