Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নদীয়া জেলায় দেড় লক্ষ ভোটারের শুনানিতে যাওয়ার সম্ভাবনা

নদীয়া জেলায় জোরকদমে চলছে এসআইআরের ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ। মঙ্গলবার বিকেলে পর্যন্ত নদীয়া জেলায় প্রায় ৬৮ শতাংশ ফর্ম অনলাইন আপলোড করা হয়েছে।

নদীয়া জেলায় দেড় লক্ষ ভোটারের শুনানিতে যাওয়ার সম্ভাবনা
  • ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলায় জোরকদমে চলছে এসআইআরের ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ। মঙ্গলবার বিকেলে পর্যন্ত নদীয়া জেলায় প্রায় ৬৮ শতাংশ ফর্ম অনলাইন আপলোড করা হয়েছে। অর্থাৎ জেলার ৪৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৮৩৮ জন ভোটারের মধ্যে ৩০ লক্ষের বেশি ভোটারের ফর্ম ইতিমধ্যেই অনলাইনে আপলোড করা গিয়েছে। 

Advertisement

তবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এখনও পর্যন্ত বিএলও অ্যাপের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলাজুড়ে প্রায় দেড় লক্ষ ভোটারকে শুনানিতে হাজির হতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ তাঁদেরকে ম্যাপ করা যায়নি। অন্যদিকে সরাসরি ম্যাপিং করা গিয়েছে ২৫ শতাংশ ভোটারকে, আর অভিভাবকের মাধ্যমে ম্যাপ করা গিয়েছে ৩০ শতাংশ ভোটারকে। যদিও শুনানিতে নাম ওঠা সংখ্যাটা আরও কিছুদিন পর স্পষ্ট হবে। এপর্যন্ত অনলাইন আপডেট অনুযায়ী, নদীয়া জেলায় মৃত, অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, ডুপ্লিকেট সহ নানা কারণে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যাটা প্রায় ৫৫ হাজার কাছাকাছি। তবে এখনও পর্যন্ত শুনানির ডাকা আসা, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রবণতা নদীয়া দক্ষিণের বিধানসভাগুলিতেই বেশি।‌ তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ডিজিটাইজশন সহ এসআইআরের কাজ শেষ করে ফেলতে চাইছে জেলা প্রশাসন। 
নদীয়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, আমরা ডিজিটাইজেশনের কাজে জোর দিয়েছি। প্রায় ৭০ শতাংশ ডিজিটাইজশনের কাজ হয়ে গিয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বাকি কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলার ৪৪ লক্ষ ৯ হাজার ৯৫১ জন ভোটারকে ফর্ম বিতরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ বিএলও অ্যাপ অনুযায়ী ৯ হাজার ভোটার ফর্ম পাননি। যদিও প্রশাসনের দাবি, এই ৯ হাজার ভোটারের মধ্যে এমন অনেকেই রয়েছেন, যাঁদের নাম বিএলওরা অ্যাপে এখনও পর্যন্ত আপলোড করেননি। আবার এমনও রয়েছে যাঁদের তিনবার গিয়েও বাড়িতে পাওয়া যায়নি। যদিও শুরুতে বিএলওদের নির্দেশ ছিল— যে ঠিকানায় ভোটারকে পাওয়া যাবে না, সেখানে ফর্ম রেখে আসলেই দায়িত্ব শেষ। পরে নির্বাচন কমিশন সেই নিয়মে সংশোধন আনে। নতুন নির্দেশে বলা হয়, ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য কোনও ঠিকানায় টানা তিনবার গিয়ে ভোটারকে না পেলে সংশ্লিষ্ট বাড়ির দরজায় একটি নোটিশ টাঙিয়ে তার ছবি তুলতে হবে। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত, স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত এবং ডুপ্লিকেট ভোটারদের চিহ্নিত করছেন বিএলওরা। সেইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনে ফর্ম জমা দিতে অনিচ্ছুক ভোটারদেরও এই তালিকায় রাখা হয়েছে। সেক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে নদীয়া জেলায় মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৩৭ হাজার বেশি মৃত ভোটার পাওয়া গিয়েছে। মূলত নদীয়া দক্ষিণের রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভা, কল্যাণী ও চাকদহ বিধানসভায় মৃত ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার প্রবণতা বেশি। সেই সঙ্গে এখনও পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি অনুপস্থিত ভোটার পাওয়া গিয়েছে। স্থানান্তরিত ভোটারের সংখ্যাটা প্রায় ১৪ হাজার এবং ডুপ্লিকেট ভোটার পাওয়া গিয়েছে প্রায় ১ হাজার। অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত সবমিলিয়ে সম্ভাব্য বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ৫৫ হাজারের বেশি। তবে এই সংখ্যাটা একশো শতাংশ ভোটারের ডিজিটাইজেশন সম্পন্ন হলে বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ