নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ছাত্রছাত্রীর অভাবে স্কুল বন্ধ হলেও এসএসসি-র মাধ্যমে নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা বাড়িতে বসে বসে মাইনে তুলছেন। পূর্ব মেদিনীপুরে এরকম এক-দুটো স্কুল নয়, ১৪টা স্কুলে প্রায় ৩০জন শিক্ষক-শিক্ষিকা বাড়িতে বসে মাইনে তুলছেন। পড়ুয়ার অভাবে এই জেলায় ৫০টি জুনিয়ম হাইস্কুলে তালা পড়েছে। অধিকাংশ বন্ধ হওয়া স্কুল থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলি করা হলেও এখনও অন্তত ১৪টা স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলি হয়নি। তাঁরা বাড়িতে বসে বসে মাইনে পাচ্ছেন। তাঁদের জন্য প্রতি মাসে সরকারের খরচ হচ্ছে প্রায় ১৫লক্ষ টাকা। এই মুহূর্তে শিক্ষকদের বদলির জন্য উৎসশ্রী পোর্টাল বন্ধ। যেকারণে পড়ুয়াশূন্য স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলি আটকে রয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) পলাশ রায় বলেন, পড়ুয়ার অভাবে প্রায় ৫০টির মতো জুনিয়র হাইস্কুল বন্ধ কিংবা বন্ধের মুখে। কিছু স্কুলে এখনও শিক্ষক-শিক্ষিকা আছেন। উৎসশ্রী পোর্টাল বন্ধ থাকায় তাঁদের বদলি ঝুলে রয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা ১২টায় শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের শিউড়ি জুনিয়র হাইস্কুলে গিয়ে দেখা যায়, তালা ঝুলছে। ২০২২সাল থেকে ওই স্কুলে কোনও পড়ুয়া নেই। কিন্তু, দু’জন শিক্ষক আছেন। পড়ুয়া না থাকায় তাঁরাও স্কুলের পথ ভুলে গিয়েছেন। এখানকার টিচার ইন-চার্জ উত্তম বিশ্বাস বলেন, তিন বছর স্কুলে কোনও পড়ুয়া নেই। এখানে তিনজন শিক্ষক ছিলেন। একজন বদলি হয়ে চলে গিয়েছেন। এখন আমরা দু’জন আছি। আমরা অন্য জায়গায় বদলির জন্য আবেদন করেছি। বিকাশ ভবনেও দৌড়ঝাঁপ করেছি। কিন্তু, বদলি না হওয়ায় শিক্ষাদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এরকম ১৪-১৫টা স্কুলে একই সমস্যা রয়েছে। শিক্ষকরা বদলি হতে চাইলেও সরকারিভাবে সেই নির্দেশিকা জারি হচ্ছে না।
একসময় শিউড়ি জুনিয়র হাইস্কুলে ৪০জনের বেশি ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করত। তিনজন স্থায়ী শিক্ষক ছাড়াও দু’জন গেস্ট টিচার ছিলেন। কিন্তু, ২০১৮-’১৯ সাল থেকে স্কুলে পড়ুয়া সংখ্যা দ্রুত কমতে শুরু করে। ২০২২সাল থেকে একদম শূন্য হয়ে যায়। এরপর গেস্ট টিচাররা স্কুল ছাড়তে বাধ্য হন। তিনজন স্থায়ী শিক্ষকের মধ্যে একজন বদলি হয়ে অন্যত্র গেলেও বাকি দু’জন বসে বসে মাইনে পাচ্ছেন। একইভাবে ময়না ব্লকের ব্রজবল্লভপুর জুনিয়র হাইস্কুলে কোনও পড়ুয়া নেই। অথচ, দু’জন স্থায়ী শিক্ষক আছেন। পড়ুয়া না থাকায় তাঁরা বসে বসে মাইনে তুলছেন। ওই স্কুলের শিক্ষক চিন্ময় মণ্ডল বলেন, ২০২১সাল থেকে আমাদের স্কুল ছাত্রশূন্য হয়ে গিয়েছে। আমরা এই মুহূর্তে দু’জন শিক্ষক রয়েছি। অন্যত্র বদলি হয়ে গেলে সেখানে পড়ানোর সুযোগ পেতাম।
এইভাবে ময়না ব্লকের গোড়ামহাল চক জুনিয়র হাই স্কুল এবং গৌরাঙ্গ চক জুনিয়র হাই স্কুল পড়ুয়া শূন্য হয়ে গেলেও শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের পশড়া পিতুলসাহা জুনিয়র হাই স্কুলে খাতায় কলমে তিনজন পড়ুয়া থাকলেও তারা কেউ স্কুলে আসে না। তাদের একজন ড্রপ আউট। বাকি দু’জন শারীরিক প্রতিবন্ধী। অথচ, দু’জন শিক্ষক-শিক্ষিকা আছেন।
এইভাবে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় রামনগর, এগরা এবং নন্দকুমার সহ প্রায় ১৪টি স্কুল ছাত্রশূন্য হয়ে যাওয়ার পরও শিক্ষক-শিক্ষিকারা আছেন। তাঁদের অন্য স্কুলে বদলি করলে সেখানে পড়াতে পারতেন। কিন্তু, শিক্ষাদপ্তর তাদের বদলি করছে না। এরকম প্রায় ৩০জন শিক্ষককে বেতন দিতে প্রতি মাসে সরকারের ৩০ লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে।