Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পূর্ব মেদিনীপুরে ১২৮৫টি পুজো কমিটিকে ১৪ কোটি টাকা অনুদান

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ১২৮৫টি পুজো কমিটি সরকারি অনুদান বাবদ মোট ১৪ কোটি ১৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পাচ্ছে।

পূর্ব মেদিনীপুরে ১২৮৫টি পুজো কমিটিকে ১৪ কোটি টাকা অনুদান
  • ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ১২৮৫টি পুজো কমিটি সরকারি অনুদান বাবদ মোট ১৪ কোটি ১৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পাচ্ছে। সোমবার তমলুকে পুলিস সুপারের অফিস থেকে সব থানার পুলিসের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে ওই চেক বিতরণ শুরু হয়েছে। এদিন তমলুক থানার উদ্যোগে শালগেছিয়ায় একটি গেস্ট হাউসে ১১৯টি পুজো কমিটিকে চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র, পুরসভার চেয়ারম্যান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়, মহকুমা পুলিস অফিসার আফজল আব্রার, থানার আইসি সুভাষচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ ছিলেন। জানা গিয়েছে, নন্দকুমার থানায় ৬৬টি, সুতাহাটায় ৮৩টি পুজো কমিটি অনুদান পাবে। এভাবে গোটা জেলার ২৯টি থানা এলাকায় মোট ১২৮৫টি পুজো কমিটি এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা মতো এক লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান পাচ্ছে। মঙ্গলবার তমলুকে চেক নিতে এসেছিলেন পূর্বনখা আমরা সবাই মহিলা সমিতির মিঠু মাইতি ও বর্ণালী মহাপাত্র মাইতি। মিঠুদেবী বলেন, আমরা চার লক্ষ টাকা বাজেটে পুজো করি। সরকারি এই অনুদান পাওয়ায় আমরা পুজোটা ঠিকমতো সম্পন্ন করতে পারি। ৫০জন মহিলা এই পুজোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৩০জন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জমানো টাকা পুজোয় অনুদান হিসেবে দেন। রাজ্য সরকার পুজো কমিটির পাশে দাঁড়ানোয় আমরা কৃতজ্ঞ।

Advertisement

তাম্রলিপ্ত পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন সংস্থার মহিলা পরিচালিত পুজো ৫৩ বছরে পড়ল। তমলুক শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের পদুমবসানের ওই পুজো কমিটির সভানেত্রী রমা দত্ত ও সম্পাদিকা সুভদ্রা চক্রবর্তী বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে শুধুমাত্র চাঁদা তুলে পুজো করা একটা কঠিন। রাজ্য সরকারের এই অনুদান পুজো আয়োজনে অনেকটা‌ই সুবিধা হয়। এবছর পুজোর অনুদান ৮৫ হাজার থেকে এক লক্ষ ১০ হাজার হয়েছে। আবার অনেকে অনুদান পাওয়া পুজো কমিটিকে চাঁদা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মহিষাদলে এনিয়ে অনেকের বাড়িতে পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। এনিয়ে মহিষাদলের বাসিন্দা শিক্ষক বিক্রম চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমাদের ট্যাক্সের টাকা থেকেই সরকার অনুদান দিচ্ছে। তাহলে আমরা আবার পুজোর চাঁদা দেব কেন? 
মহিষাদলের সানডে ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ হরিসাধন পতি বলেন, ১লক্ষ ১০হাজার টাকা দিয়ে কখনও দুর্গাপুজো হয় না। এই পুজো আয়োজনে অনেক খরচ হয়। তাছাড়া, এই পুজোর সঙ্গে অনেকের রুজিরুটি জড়িয়ে থাকে। এই পুজো অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। সরকারি অনুদান নিয়ে পুজোয় অনেক সামাজিক কর্মসূচি নেওয়া হয়। তাই সরকারি অনুদানের বিষয়টিকে পটিজিভ হিসেবে নেওয়া উচিত। অনুদানপ্রাপ্ত পুজো কমিটিকে চাঁদা না দেওয়ার বিষয়ে পোস্টারের বিরোধিতা করছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ