Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুই বর্ধমানে চাকরি হারা ১৩৭১ শিক্ষক

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পূর্ব বর্ধমানে এক হাজার ২৪জন শিক্ষক-শিক্ষিকা চাকরি হারিয়েছেন।

দুই বর্ধমানে চাকরি হারা ১৩৭১ শিক্ষক
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান ও আসানসোল ও সংবাদদাতা, কালনা: সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পূর্ব বর্ধমানে এক হাজার ২৪জন শিক্ষক-শিক্ষিকা চাকরি হারিয়েছেন। পশ্চিম বর্ধমানের ৩৪৭জন শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিল হচ্ছে। এই রায়ের পর আগামী দিনে কীভাবে পড়াশোনা চলবে তা নিয়ে শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিকরা চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রায় জানতে পেরেই কাঁদতে দেখা যায় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। এদিন বিকেলে বর্ধমান শহরে বিজেপি এবং এবিটিএ পথে নামে। তারা বিক্ষোভ দেখায়। বিজেপির সঙ্গে পুলিসের ধস্তাধস্তি হয়। বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা বলেন, রাজ্য সরকারের অপদার্থতার জন্যই এতজন চাকরিহারা হল। রাজ্য সরকার যোগ্যদের তালিকা দিতে পারেনি। সেকারণেই যোগ্যদের চাকরি গিয়েছে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, এদিন যারা পথে নেমেছে তাদের জন্য‌ই এতজনের চাকরি গিয়েছে। ওরা এখন কুমিরের কান্না কাঁদছে।

Advertisement

রানিগঞ্জের বাসন্তীদেবী গোয়েঙ্কা বিদ্যামন্দির খনি শহরের অন্যতম বড় গার্লস স্কুল। সুপ্রিম কোর্টের রায় যেন এই স্কুলে সুনামির মতো আছড়ে পড়েছে। স্কুলে ১৪০০জনের বেশি ছাত্রী। ২৭জন শিক্ষিকা ছিলেন। তারমধ্যে ১২জন শিক্ষিকার চাকরি বাতিল হল। কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষিকারা। কে কাকে সান্ত্বনা দেবেন! স্কুল চলাকালীন কাঁদতে কাঁদতে স্কুল থেকে বেরিয়ে যান শিক্ষিকারা। তাঁদের এই করুণ পরিণতির সাক্ষী থাকল পড়ুয়ারা। অন্যান্য সহশিক্ষকরা হতাশা প্রকাশ করেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শ্রুতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ২০১৯সালের মার্চ মাস থেকে ওঁদের দেখছি। অত্যন্ত দক্ষ শিক্ষিকা ছিলেন। যোগ্যতায় কোনও ঘাটতি ছিল না। এবার এত বড় স্কুল চালানো মুশকিল হয়ে পড়বে। 
একই অবস্থা দুর্গাপুরের নেপালিপাড়া হিন্দি হাইস্কুলেও। এই স্কুলে চার হাজারের বেশি পড়ুয়া রয়েছে। শিক্ষক ছিলেন ৩৩ জন। আটজন শিক্ষক- শিক্ষিকা চাকরি হারিয়ে টিচার্স রুমে কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক কলিমুল হক বলেন, যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরি যাতে বহাল রাখা যায় তার আর্জি জানাই। না হলে শিক্ষাক্ষেত্রে বড় প্রভাব পড়বে। দুর্গাপুরের জেমুয়া ভাদুবালা বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক কাজ হারিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক জইনুল হক বলেন, পঠনপাঠনে এর প্রভাব পড়বে। আসানসোলের চেলিডাঙা হাইস্কুলে তিনজন, বালবোধন হাইস্কুলের চারজনের চাকরি গিয়েছে। উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। 
কালনা শহরের দু’টি স্কুলে ছ’জন করে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। কালনা হিন্দু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ছ’জন শিক্ষিকার নাম ওই তালিকায় থাকায় এদিন স্কুলে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফাল্গুনি মল্লিক বলেন, স্কুলে ১৭০০জন ছাত্রী। ক্লাস সংখ্যা ২০টির বেশি। কীভাবে পঠনপাঠন চালানো হবে জানি না। কালনা মহারাজা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রঘুনাথ মণ্ডল বলেন, ২০১৬ প্যানেলভুক্ত আমাদের স্কুলের ছ’জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। ছাত্র সংখ্যা ১৮০০বেশি। ৩০টির বেশি ক্লাস রয়েছে। ওই ছ’জন সহকর্মী অনুপস্থিত হলে খুবই সমস্যায় পড়তে হবে। আদালতের রায়ে কালনা অম্বিকা মহিষমর্দিনী উচ্চ বিদ্যালয়, নিগমানন্দ উচ্চ বিদ্যালয় সহ শহর ও শহরতলির আরও বেশ কয়েকটি স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে।
 কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এক শিক্ষিকা।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ