সংবাদদাতা, বর্ধমান: ২০১৭ সালে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে মারধর ও চোখে ছুরি মারার ঘটনায় পঞ্চায়েত সদস্যের বাবা গুরুতর জখম হন। সেই ঘটনায় বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার(বিডিএ) চেয়ারপার্সন কাকলি গুপ্ত, বর্ধমান-১ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূলের যুব ব্লক সভাপতি মানস ভট্টাচার্য, পঞ্চায়েতের প্রধান ও অঞ্চল সভাপতি সহ ১৩জনকে দোষী সাব্যস্ত করল আদালত। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩০৭, ৩২৬ ও ৩৪ ধারায় তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। সোমবার বর্ধমানের দ্বিতীয় ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক অরবিন্দ মিশ্র ১৩জনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। মামলায় দু’জন খালাস পেয়েছেন। আজ, মঙ্গলবার সাজা ঘোষণা হবে। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, খুনের চেষ্টার অভিযোগে ৩০৭ ধারায় সর্বোচ্চ সাজার মেয়াদ ১০বছর। সাজা ঘোষণার পরই আদালত চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর চাউর হওয়ার পর তৃণমূলের বিধায়ক থেকে শুরু করে দলের নেতারা আদালত চত্বরে ভিড় জমান। আদালত চত্বরের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। এমনকী, র্যাফ মোতায়েন করা হয়। আদালত চত্বরে পৌঁছে যান ডিএসপি(হেড কোয়ার্টার) ও বর্ধমান থানার আইসি। দোষী সাব্যস্ত হওয়া ১৩জনকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। কেসের সরকারি আইনজীবী হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ১৫জনের মধ্যে ১৩জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। বাকি দু’জনকে খালাস দিয়েছেন বিচারক।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৮টা নাগাদ রায়ান পঞ্চায়েতের তৎকালীন সদস্য জীবন পালের বাবা দেবু পাল বাড়ির কাছে নাড়িগ্রামের দাসপাড়ার দুর্গাতলায় বসেছিলেন। সেসময় তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। রড, টাঙি, তরোয়াল প্রভৃতি নিয়ে তাঁর উপর চড়াও হয় বেশ কয়েককজন। তাঁর ডান চোখে ছুরি মারা হয়। মারধরে তিনি গুরুতর জখম হন। তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার এসএসকেএমে ভর্তি করা হয়। ঘটনার দিনই জখমের স্ত্রী সন্ধ্যা পাল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে কেস রুজু করে তদন্তে নামে পুলিস। ঘটনায় বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারপার্সন কাকলি গুপ্ত, বর্ধমান-১ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা যুব ব্লক সভাপতি মানস ভট্টাচার্য, রায়ান-১ পঞ্চায়েতর প্রধান কার্তিক বাগ, রায়ান-১ অঞ্চলের তৃণমূলের সভাপতি শেখ জামাল সহ দলের বেশ কয়েকজনের নাম জড়ায়। কার্তিকের বাবা ও ভাইয়ের নামও জড়ায়। তদন্তে নেমে পুলিস কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষ করে ২০১৮ সালের ২২ জানুয়ারি ১৫জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেন তদন্তকারী অফিসার শিউকুমার সিং। আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বেশ কয়েকজন বয়ান বদল করেন। তাঁদের বিরূপ সাক্ষী ঘোষণা করা হয়। তবে, বর্ধমান হাসপাতালের দুই চিকিৎসক এবং এসএসকেএমের চিকিৎসকের বয়ান মামলার বিচারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মত আইনজীবী মহলের। হাসপাতালে ভর্তির সময় চিকিৎসকের কাছে হামলায় কয়েকজন জড়িতর নাম বলা হয়। এফআইআরেও তাঁদের নাম রয়েছে। বর্ধমান আদালত থেকে বের করা হচ্ছে দোষীদের।-নিজস্ব চিত্র