Bartaman Logo
২ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

১২৫ দিনের কাজের প্রথম ৩ মাস, কাজ পাননি বঙ্গের ১ কোটি ২৬ লক্ষ জব কার্ড হোল্ডার!

রাজ্যে ১২৫ দিনের কাজ শুরুর পর কেটে গিয়েছে পাক্কা তিন মাস। অথচ রাজ্যের মোট ১ কোটি ২৯ লক্ষ গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ড বা জবকার্ড হোল্ডারের মধ্যে কাজ পেয়েছেন মাত্র ২ লক্ষ ৬৭ হাজার!

১২৫ দিনের কাজের প্রথম ৩ মাস, কাজ পাননি বঙ্গের ১ কোটি ২৬ লক্ষ জব কার্ড হোল্ডার!
  • ২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে ১২৫ দিনের কাজ শুরুর পর কেটে গিয়েছে পাক্কা তিন মাস। অথচ রাজ্যের মোট ১ কোটি ২৯ লক্ষ গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ড বা জবকার্ড হোল্ডারের মধ্যে কাজ পেয়েছেন মাত্র ২ লক্ষ ৬৭ হাজার! অর্থাৎ, পুজোর মুখে অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীলাভ তো দূরঅস্ত, কাজই পাননি বঙ্গের ১ কোটি ২৬ লক্ষ জব কার্ড হোল্ডার। এখানেই শেষ নয়। আড়াই লক্ষের কিছু বেশি যে কার্ড হোল্ডাররা কাজ পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যেও অনেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা বাকি।

Advertisement

সূত্রের খবর, উৎসবের মুখে বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া নিয়ে একাধিক জেলা প্রশাসন রাজ্যকে ইতিমধ্যেই চিঠি লিখেছে। যদিও জেলা প্রশাসনের দাবি, মূলত ‘ডিবিটি স্পর্শ’ এবং ‘এসএনএ স্পর্শ’ নামাঙ্কিত কেন্দ্রীয় টাকা ট্রান্সফারের ‘জটিল’ প্রক্রিয়ার কারণেই জব কার্ড হোল্ডাররা টাকা পাচ্ছেন না। কাজ করা সত্ত্বেও। দু’-একটি ছোটো রাজ্য বাদ দিয়ে সরাসরি জবকার্ড হোল্ডারদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা যাওয়া, বা ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের (ডিবিটি) ক্ষেত্রে একেবারে তলানিতে পশ্চিমবঙ্গ। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যানই দিচ্ছে এই তথ্য। জানা যাচ্ছে, এরাজ্যে ডিবিটি’র সংখ্যা মাত্র ৭ হাজার ৭৬২। কেন্দ্রের পরিসংখ্যানে পশ্চিমবঙ্গে ভিবি জি-রাম-জি নিয়ে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এই প্রকল্পে কাজ করার ১৫ দিনের মধ্যে মজুরি মিটিয়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু, এরাজ্যে কাজ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পারিশ্রমিক প্রাপ্তির হার মাত্র ০.৯৯ শতাংশ।
কেন এই পরিস্থিতি? রাজ্যের ব্যাখ্যা, দীর্ঘদিন ধরে আগের মনরেগা বা ১০০ দিনের কাজ বন্ধ ছিল। আবার রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের ফলে ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল স্তরের পঞ্চায়েতি ব্যবস্থাও। সেই কারণেই কাজের গতি ব্যাপকভাবে ধাক্কা খাচ্ছে। কী কাজ হবে? কোন কোন স্কিম হাতে নেওয়া হবে? এসব ঠিক থাকলেও, মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়ন একেবারেই সম্ভব হচ্ছে না বলেই মত একাধিক জেলা আধিকারিকের। এই পরিস্থিতিতে মূলত কনভারজেন্স বা অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় স্থাপন করে কাজ তুলতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তর। ভিবি জি-রাম-জি প্রকল্পের কাজে গতি আনতে নিয়ে আসা হচ্ছে নয়া পোর্টালও। তার মাধ্যমে সরাসরি একটি এলাকায় কোন কোন স্থায়ী পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ হাতে নেওয়া যায়, তা জানাতে পারবে সাধারণ মানুষ। একইভাবে যুক্ত করা হচ্ছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদেরও। তাঁরাও বিভিন্ন কাজের প্রস্তাব দিতে পারবেন। ফলে পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিরা ‘উদাসীন’ মনোভাব দেখালেও, একটি এলাকায় কী কী স্থায়ী পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন, তা সহজেই জানতে পারবে রাজ্য। পরবর্তী পর্যায়ে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই কাজের অনুমোদন হবে পঞ্চায়েত স্তরে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতির বদল ঘটিয়ে, দুর্গাপুজোর পর ১২৫ দিনের কাজে বাংলা খুব ভালো জায়গায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদী রাজ্যের পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক। তিনি বলেন, ‘আমরা যে সমস্ত পদক্ষেপ নিচ্ছি। একটা সময় আসবে যখন প্রত্যেককে কাজ দেওয়া থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মজুরি প্রদান, সব ক্ষেত্রেই এক নম্বরে থাকবে পশ্চিমবঙ্গ।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ