সংবাদদাতা, কালনা: পূর্বস্থলী-১ ব্লকের বাঁশদহ ও চাঁদের বিলের পাড়ে চুনো-বিলে কালীপুজোয় হাজার হাজার মানুষ মেতে উঠবেন। ১২ রকমের চুনো মাছের পদ ও কাঁকড়ার ভোগ মাকে দেওয়া হয়। এবার পুজোর ২৫তম বর্ষ। পুজো ঘিরে জোর প্রস্তুতি চলছে।
সংবাদদাতা, কালনা: পূর্বস্থলী-১ ব্লকের বাঁশদহ ও চাঁদের বিলের পাড়ে চুনো-বিলে কালীপুজোয় হাজার হাজার মানুষ মেতে উঠবেন। ১২ রকমের চুনো মাছের পদ ও কাঁকড়ার ভোগ মাকে দেওয়া হয়। এবার পুজোর ২৫তম বর্ষ। পুজো ঘিরে জোর প্রস্তুতি চলছে।
উল্লেখ্য, নাদনঘাট থানার পূর্বস্থলী-১ ব্লকের বিদ্যানগর ও সমুদ্রগড় পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে শতাধিক একরের চাঁদবিল ও বাঁশদহ বিল। এক সময় এই বিলে চুনো সহ অন্যান্য মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত বহু মৎস্যজীবী পরিবার। এছাড়াও বিলের জলে কয়েকশো একর চাষের জমির চাষাবাদ হতো। বাম আমল থেকে চাঁদের বিল ও বাঁশদহ বিল মজে যাওয়া ও কচুরিপানায় ঢেকে যাওয়ায় জল ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েন মৎস্যজীবীরা। চাষের জলের জোগানও কমে যায়।
২০০১ সালে মৎস্যজীবী ও চাষিদের পাশে দাঁড়ান এলাকার ভূমিপুত্র স্বপন দেবনাথ। তখন তিনি মন্ত্রী বা বিধায়ক ছিলেন না। নিজের উদ্যোগে বিল ও চুনোমাছ বাঁচাতে বিল সংস্কারের উদ্যোগ নেন। সেই সঙ্গে খড়ের ছাউনির ঘরে কালীপুজোর আয়োজন করেন। এখন সুদশ্য মন্দির হয়েছে। পাশাপাশি খালবিল ও চুনোমাছ উৎসব চালু করেন। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর তিনি বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে আনেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় বিল সংস্কার শুরু হয়। বাড়ে জল ধারণ ক্ষমতা। কচুরিপানা তুলে সরকারি উদ্যোগে মাছ ছাড়া হয়। কালীপুজোয় মাকে দেওয়া হয় বিলের মৌরলা, পুঁটি, খলসে, চাঁদা, খয়রা বেলে, ভেদাকই, কেকলে, তপসে, শোল, ল্যাটা সহ ১২ রকমের মাছ। সেই সঙ্গে থাকে কাঁকড়ার পদ। মন্দির প্রাঙ্গণে মাছ ধরার জাল পোলো সহ নানা সরঞ্জাম ও আলোর রোশনাইয়ে সাজানো হয়। প্রথতে মাটির প্রতিমা পুজো করা হতো। পরে পাথরের প্রতিমা প্রতিষ্ঠা হয়। কালীপুজো উপলক্ষ্যে কয়েক হাজার মানুষকে ভোগ বিলি করা হয়। দেওয়া হয় শীতবস্ত্র।
অতীতে এই দু’টি বিল ভাগীরথীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। কথিত আছে, চাঁদ সওদাগর জাহান্নগরে মা মনসার পুজো না দিয়ে নদী পথে বাণিজ্যযাত্রা করলে এই বিলে জলেই তাঁর নৌকা ডুবে যায়। তাই বিলের নাম হয় চাঁদবিল। এছাড়াও বাঁশদহ বিলের জল বৈষ্ণবদের কাছে পবিত্র। এই বিলের জলে চৈতন্য মহাপ্রভুর দাদা বিশ্বম্বর স্নান করতেন। বৈষ্ণবদের কেউ কেউ এই বিলকে রাধাকুণ্ড, শ্যামকুণ্ড ও গুপ্তবৃন্দাবন বলে থাকেন। স্বপনবাবু বলেন, খাল-বিল ও চুনো মাছ বাঁচাতে কালীপুজো শুরু হয়। এলাকার মৎস্যজীবীরাই মায়ের নাম দেন চুনো বিলে কালী। এখন মায়ের আশীর্বাদ ও মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় বিল সংস্কার হয়েছে। বেড়েছে চুনো মাছের জোগান। এখন পর্যাপ্ত সেচের জল পাচ্ছেন চাষিরা। এই পুজোয় মৎস্যজীবী ছাড়াও আশেপাশের আট-দশটি গ্রামের মানুষ অংশ নেন। • নিজস্ব চিত্র