সংবাদদাতা, বর্ধমান: তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করা ও খুনের চেষ্টার মামলায় ১০বছর সাজাপ্রাপ্ত রায়ান–১ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ, পঞ্চায়েতের প্রধান, অঞ্চল সভাপতি সহ তৃণমূলের ১২জনের বেলবন্ড হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে মঙ্গলবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে জমা পড়ল। সিজেএম বন্ড গ্রহণ করে সাজাপ্রাপ্তদের জামিন মঞ্জুর করেছেন। এদিনই জেল থেকে মুক্তি পেয়েছে সাজাপ্রাপ্তরা। তাদের আইনজীবী কমল দত্ত বলেন, সোমবার বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ সব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ সাজাপ্রাপ্তদের জামিন মঞ্জুর করেছেন। তাদের সিজেএম আদালতে হাজির হয়ে বেলবন্ড জমা করার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। সেইমতো এদিন বেলবন্ড জমা করা হয়েছে। হাইকোর্ট জামিনের কিছু শর্ত দিয়েছে। রায়কে চ্যালেঞ্জের আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাজাপ্রাপ্তদের মাসে একবার সিজেএম আদালতে হাজিরা দিতে হবে।
দলেরই পঞ্চায়েত সদস্যের বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করা ও খুনের চেষ্টার মামলায় গত ২৮ মার্চ বর্ধমানের দ্বিতীয় ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক অরবিন্দ মিশ্র তৎকালীন বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার চেয়ার পার্সন কাকলি গুপ্তকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও আর্থক জরিমানার নির্দেশ দেন। সেই মামলাতেই বর্ধমান–১ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মানস ভট্টাচার্য, রায়ান–১ পঞ্চায়েতের প্রধান কার্তিক বাগ, রায়ান–১ অঞ্চলের তৃণমূলের সভাপতি শেখ জামাল সহ ১২জনকে ১০বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও আর্থক জরিমানার নির্দেশ দেন বিচারক। মেয়াদ তিন বছর হওয়ায় সাজা ঘোষণার দিনই দ্বিতীয় ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারপার্সনের জামিন মঞ্জুর করেন। বাকিদের ঠাঁই হয় জেলে।
রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সাজাপ্রাপ্তরা। রায়ের উপর এবছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দিয়েছে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মাসে একদিন সিজেএম আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। সাজা ঘোষণার আগে পর্যন্ত সাজাপ্রাপ্তরা যে জামিনে মুক্ত ছিল, নির্দেশে তার উল্লেখ করেছেন বিচারপতিরা। পাশাপাশি যে ধরনের ক্ষত জখমের হয়েছিল তার ভিত্তিতে খুনের চেষ্টার ধারা প্রযোজ্য হতে পারে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতিদের এই পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।