নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: কেশপুর ব্লকের পাকুড়িয়া চিন্তামণি আদর্শ বিদ্যাপীঠ হাই স্কুলের একের পর এক পড়ুয়া আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ায় শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। জানা গিয়েছে, এই স্কুলে দু’ দিনে ১২ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জানা গিয়েছে, পড়ুয়াদের মধ্যে কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তাঁদের কেশপুর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। বাকি পড়ুয়াদের উপরেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, ছাত্রীদের মধ্যে মাথা ঘোরা, বমি ভাব, দুর্বলতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। মঙ্গলবার কয়েক জন পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর বুধবার ফের কয়েক জন পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়ায চিন্তা বাড়াচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষের। ব্লক প্রশাসনের তরফে গোটা ঘটনার উপর নজর রাখা হচ্ছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী বলেন, অনেক সময়ে সকালে টিউশনি পড়তে যায় পড়ুয়ারা। এর ফলে তারা একেবারে খালি পেটে স্কুলে আসে। গ্রামীণ অঞ্চলে এটি একটি সাধারণ সমস্যা। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকায়, শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়। একজন অসুস্থ হলে, তাকে দেখে বাকিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। পরে তারাও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী পিউ পড়িয়া জানায়, প্রথমে মাথা ঘুরছিল। এরপর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ব্লাড টেস্ট করার পর বাড়ি এসেছি। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকুড়িয়া চিন্তামণি আদর্শ বিদ্যাপীঠ হাই স্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১ হাজার ৪৫২। মঙ্গলবার নিয়মমাফিক স্কুলে গিয়েছিল পড়ুয়ারা। সকালে প্রার্থনা হওয়ার পর সকলে ক্লাসে চলে যায়। এরপর নবম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রী হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছাত্রীরা জ্ঞান হারায়। দ্রুত ক্লাস রুমে পৌছে যান শিক্ষকরা। ৬ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় উদ্বেগ দেখা দেয়। স্কুলের উদ্যোগে অসুস্থ ছাত্রীদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর বুধবার ফের একই ঘটনা ঘটে। স্কুল ক্যাম্পাসে কয়েকজন ছাত্রী ফের অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাঁদের ফের হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্কুল চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কাঁদতে শুরু করে পড়ুয়ারা। খবর পাওয়া মাত্রই স্কুলে পৌঁছয় বিশেষ মেডিক্যাল টিম। জানা গিয়েছে, কোনও কিছুর ভয় থেকেও অসুস্থ হতে পারে পড়ুয়ারা। স্কুলের শিক্ষক রাজীবকুমার ঘোষ বলেন, গত দু’ দিন ধরেই ছাত্রীরা প্রার্থনার পর অসুস্থ বোধ করছিল। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ব্লক ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ছাত্রীদের ট্রিটমেন্ট করা হয়েছে। দু›জন ছাত্রীকে কেশপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরমধ্যেই এই স্কুলে হেল্থ ক্যাম্প হবে। যাতে আগামী দিনে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। কেশপুরের বিএমওএইচ সুরজিত মণ্ডল বলেন, গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি একধরনের প্যানিক রি-অ্যাকশন। এক জন অসুস্থ হলে, বাকিরা মানসিক চাপে পড়ে পড়ে যাচ্ছে। এটা অনেক সময় স্কুলে বা গোষ্ঠীগত পরিবেশে দেখা যায়।



