নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বীরভূম স্বাস্থ্যজেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। জানুয়ারি থেকে এখনও অবধি জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৫০ ছুঁইছুঁই। যা গতবছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি। স্বাস্থ্যদপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, একবছর আগে এই সময়কালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১২৫। এই পরিস্থিতিতে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকরা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। ভরা বর্ষায় কীভাবে ডেঙ্গু মোকাবিলা করা হবে-তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সাফাইয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু লাগাতার বৃষ্টির জেরে এবছর আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক মৃণালকান্তি ঘোষ বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা হলেও বেশি। তবে আমরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবধরনের পদক্ষেপ করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বাড়ানো হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর জানিয়েছে, এই মুহূর্তে জেলায় অ্যাক্টিভ ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১২। গত সাতদিনে তাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন। এবছর জানুয়ারি থেকে ২১আগস্ট অবধি মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৪৫। দুবরাজপুর ব্লকে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এখনও পর্যন্ত ওই ব্লকে ২৩জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরই রয়েছে সাঁইথিয়া। সেখানে এখনও পর্যন্ত ১৭জন আক্রান্ত হয়েছেন। নানুরে ১৫, ইলামবাজার ও সিউড়ি-২ ব্লকে ১২জন করে ডেঙ্গু রোগীর হদিস মিলেছে। অন্যান্য ব্লকে এখনও অবধি আক্রান্তের সংখ্যা ১০-এর নীচে রয়েছে।
বর্ষার মরশুমেই ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত নজরে আসে। সেজন্য এবার শুরু থেকেই সাফাইয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। কোথাও যাতে জল জমে না থাকে, সেদিকে নজর দেওয়া হয়। কিন্তু যেরকম বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে স্বাস্থ্যকর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ওই দপ্তরের আধিকারিকরা জানান, এখন একটানা মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে না। প্রায় রোজ বৃষ্টি হলেও মাঝে খানিকটা বিরাম থাকছে। ফলে জমা জলে সৃষ্ট মশার লার্ভা নষ্ট হওয়া কিংবা ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব একটা নেই। এটা যথেষ্ট চিন্তার বিষয়। তবে ভিসিটি ও ভিএসটি কর্মীরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করে চলেছেন।
স্বাস্থ্যকর্তারা জানালেন, একনাগাড়ে মুষলধারে বৃষ্টি হলে ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত অনেকটাই কমবে। তবে গতবছরের তুলনায় এবার আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা হলেও বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।