Bartaman Logo
৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বালি খাদান থেকে সরকারের কোষাগারে এক হাজার কোটি

গত তিনবছরে বাঁকুড়ার বালি খাদান থেকে প্রায় একহাজার কোটি টাকা রাজ্যের কোষাগারে ঢুকেছে। শুধুমাত্র বালিঘাট নিলামে তুলেই রাজ্য সরকার ৭৮০কোটি টাকা আয় করেছে

বালি খাদান থেকে সরকারের কোষাগারে এক হাজার কোটি
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, প্রতিনিধি: গত তিনবছরে বাঁকুড়ার বালি খাদান থেকে প্রায় একহাজার কোটি টাকা রাজ্যের কোষাগারে ঢুকেছে। শুধুমাত্র বালিঘাট নিলামে তুলেই রাজ্য সরকার ৭৮০কোটি টাকা আয় করেছে। বালি তোলা ও পরিবহণের জন্য ইস্যু করা চালান থেকে বাকি টাকা এসেছে। রয়্যালটি খাতে ২০২৪-২৫অর্থবর্ষে সর্বোচ্চ ১০০কোটি টাকা আয় করেছে রাজ্য। তবে চলতি অর্থবর্ষে ওই রেকর্ড ভেঙে যাবে বলে জেলা প্রশাসনের কর্তারা মনে করছেন।

Advertisement

জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, বালিঘাট নিলামে তোলার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের সংস্থা এমডিটিসিএল মুখ্য ভূমিকা পালন করে। জেলা ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তর চালান ইস্যু করে। তা ব্যবহার করে খাদান মালিকরা বালি তুলে বিক্রি করেন। জুলাই-আগস্ট মাস অবধি বালি খাদান থেকে সবমিলিয়ে ৯৭৩কোটি টাকা আয় হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষ শেষ হতে হতে টাকার অঙ্ক হাজার কোটি ছাপিয়ে যাবে।
আগে রাজ্যের অন্য জেলার মতো বাঁকুড়ার নদনদী থেকেও যথেচ্ছ বালি পাচার হতো। দামোদর, দ্বারকেশ্বর, কংসাবতী সহ অন্য নদনদী থেকে বালি তুলে মাফিয়ারা বিক্রি করত। ফলে সরকারি কোষাগারে সেভাবে টাকা জমা পড়ত না। বালি বিক্রির টাকায় মাফিয়া ও পাচারকারীরা ফুলেফেঁপে উঠেছিল। তবে ২০১৬সালের পর থেকে ছবিটা পাল্টাতে শুরু করে। ওই সময় থেকে নদীর বালিঘাট (স্যান্ড রিজার্ভ) চিহ্নিত করা শুরু হয়। পরে সেগুলি নিলামে তোলা হয়। আধিকারিকদের একাংশের পেশাদারিত্বের অভাব থাকায় প্রথমদিকে নিলাম থেকে সরকারের সেভাবে আয় হতো না। পরে আধিকারিকরা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন। নিলামে যত বেশি সংখ্যক আগ্রহীকে যুক্ত করা হয়। ফলে বালি খাদানের দর হু হু করে বাড়তে থাকে। একজনকে একটানা বালি তোলার বরাত দেওয়ার বদলে নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য লিজ দেওয়া হয়। লিজের মেয়াদ শেষ হলে ফের নিলাম প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফলে সরকারি কোষাগারে বাড়তি টাকা জমা হয়। এছাড়া, রয়্যালটি থেকে বছরভর সরকারের আয় হতেই থাকে।
জেলা ভূমিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, প্রতিবছর বর্ষার জন্য জুন-জুলা‌ই থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত জেলার সমস্ত বালি খাদান বন্ধ থাকে। সেজন্য তার কিছুদিন আগে খাদান মালিকরা বালি তুলে মজুত করে রাখেন। দপ্তরের ইস্যু করা চালান ব্যবহার করে তাঁরা জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ওই বালি বিক্রি করেন। বর্ষা বিদায়ের পর নদীর জলস্তর কমে যায়। তখন আমরা ফের খাদান চালু করার অনুমতি দিই। তিনবছরে বালি খাদান থেকে বাঁকুড়ায় একহাজার কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা পড়েছে। এর আগে কবে এত আয় হয়েছে, তা মনে করতে পারছি না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ