সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর: বোল্লা কালীর পুজো ও মেলা উপলক্ষ্যে মিষ্টি ভোগ তৈরিতে ব্যস্ত গঙ্গারামপুর শহরের প্রস্তুতকারকরা। হাতে মাত্র দু’দিন। শুক্রবার ৭ নভেম্বর সাড়ম্বরে পূজিতা হবেন বোল্লা কালীমাতা। মায়ের ভোগ মানেই বাতাসা, খাগড়াই, কদমা ও রকমারি ছাঁচের তৈরি চিনির মিষ্টি। গঙ্গারামপুর শহরের পিডব্লুডি পাড়া এলাকায় বড় বড় কারখানাতে জ্বাল হচ্ছে চিনি। বোল্লা মায়ের পুজোর জন্য বিভিন্ন ধরনের ভোগ তৈরি করে বস্তা ভর্তি হচ্ছে।
গঙ্গারামপুরের মিষ্টি ভোগ প্রস্তুতকারকরা সারা বছর বাতাসা, কদমা, খাগড়াই তৈরি করে যে পরিমাণ বিক্রি করে থাকেন, বোল্লা পুজোর রাতে একদিনে তার বেশি ভোগ বিক্রি হয়। গঙ্গারামপুরের জিৎ সরকার, বিজয় কর্মকার, সন্তু সরকার, বিকাশ সরকাররা সারা বছর ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করলেও কালীপুজোর পরেই গঙ্গারামপুর শহরের বাড়িতে চলে আসেন। তাঁরা বোল্লা কালীর পুজো উপলক্ষ্যে মিষ্টি ভোগ তৈরিতে নেমে পড়েন।
বোল্লা কালীপুজোর রাতে কয়েকশ কুইন্টাল ভোগ বিক্রি হয়ে থাকে। গঙ্গারামপুরের ভোগ প্রস্তুতকারকরা এবার বোল্লায় ১০০ কুইন্টাল মিষ্টি ভোগ নিয়ে দোকান দেবেন। এবারে প্রতিবেশী রাজ্য বিহার থেকেও ভোগ প্রস্তুতকারকরা দুধের তৈরি প্যারা নিয়ে পুজোর তিন দিন আগে পাইকারি বিক্রি করবেন ভোগ ব্যবসায়ীদের কাছে। বোল্লা কালীমাতার কাছে অনেকেই হাতের তৈরি কদমা মানত করে থাকেন। গঙ্গারামপুরের প্রস্তুতকারকরা সোয়া কেজি থেকে শুরু করে ২ কেজি এবং ৫ কেজি ওজনের কদমা তৈরি করছেন। কদমা বিশেষ ভাবে প্যাকেট করে প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হবে।
গঙ্গারামপুর শহরের মিষ্টিভোগ প্রস্তুতকারক কল্যাণ কুণ্ডু বলেন, এবারে ১০০ কুইন্টাল ভোগ তৈরির টার্গেট করে বোল্লা মেলায় পাইকারি ও খুচরো বিক্রি করব। অভিজ্ঞ শ্রমিক না পাওয়ায় বেশি ভোগ তৈরি করা যায় না। ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক নিয়ে ভাইফোঁটার পরের দিন থেকে কাজ শুরু হয়ে যায়। ৫০ কুইন্টাল ভোগ পুজোর দিন শেষ হয়ে যাবে। তারপর মেলাতেই তিন দিন ধরে থেকে ভোগ তৈরি ও বিক্রি হবে। চিনির তৈরি বাতাসা, ছোট কদমা, খাগড়াই, ছাঁচের তৈরি হাতি, ঘোড়া ১০০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হবে। বিশেষ ধরনের মানতের কদমা ৩৫০ টাকা কেজি। বিহারের মিষ্টি প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। পুজোর তিন দিন আগে এসে তাঁরা প্যারা ভোগ বিক্রি করবেন। তাঁদের থেকে কিনে আমরা বিক্রি করি।
বাইরের জেলা থেকেও মায়ের ভোগ তৈরির দোকান দিয়েছে বোল্লা মেলায়। শ্রমিক বিজয় কর্মকার বলেন, ছোট থেকে মিষ্টির ভোগ তৈরি কারখানায় কাজ দেখে শিখেছি। মায়ের পুজো এলেই বাড়তি উপার্জন হয়। তাই সারা বছর যেখানেই কাজ করি না কেন পুজোর আগে সময় চলে আসি শহরের মিষ্টির ভোগ তৈরি কারখানায়। বোল্লা মেলা ঘোরাও হয়, বাড়তি উপার্জন হয়ে যায়। এবারেও মেলায় ভালো আয় হবে মায়ের আবির্ভাবে। তৈরি করা হচ্ছে মিষ্টি।-নিজস্ব চিত্র