Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

বেকারত্বের জ্বালায় ৬ মাসে নাম লিখিয়েছে ১৫ কোটি, ১০০ দিনের কাজে মরিয়া মোদির ভারত

করোনাকালে এই প্রকল্পই ছিল গ্রামীণ অর্থনীতির রক্ষাকর্তা

বেকারত্বের জ্বালায় ৬ মাসে নাম লিখিয়েছে ১৫ কোটি, ১০০ দিনের কাজে মরিয়া মোদির ভারত
  • ১৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: করোনাকালে এই প্রকল্পই ছিল গ্রামীণ অর্থনীতির রক্ষাকর্তা। ফের দেশজুড়ে যখন জীবিকার মন্দা চরমে, তখন পুনরায় ত্রাতার নাম ১০০ দিনের কাজ। বিগত ছ’মাস ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, মোদির ভারতে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে মনমোহন সিং সরকারের চালু করা ১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টি প্রকল্পে নাম লেখানোর প্রবণতা। বেকারত্বের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। সরকারি সূত্রেই জানা যাচ্ছে, গত ছ’মাসে ১৫ কোটির বেশি মানুষ এই প্রকল্পে কাজের আবেদন করেছেন। সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ পরিসংখ্যান হল, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে প্রতি মাসেই লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে জব কার্ড ইস্যুর সংখ্যা। অর্থমন্ত্রকের কাছে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেছিল গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই টাকা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তই হয়নি। ২০২৪ সালের বাজেটে ৮৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত অর্থমন্ত্রকের অনড় সিদ্ধান্ত, ওই টাকার মধ্যেই বছর শেষ করতে হবে। কিন্তু উদ্বেগের তথ্য হল, আর্থিক বছরের শেষ ত্রৈমাসিকে গ্রামীণ ভারতে ১০০ দিনের কাজ করার জন্য কার্যত রেকর্ড চাহিদার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সূত্রের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে এই প্রকল্পে কাজের আবেদন করেছেন ২ কোটি ৭০ লক্ষ গ্রামবাসী, যা রেকর্ড। ফেব্রুয়ারি মাসে এই সংখ্যা কিছুটা কমলেও সেটা যথেষ্ট বেশি। প্রায় ২ কোটি ৬১ লক্ষ। মার্চ মাসের ১০ তারিখের মধ্যেই কাজের আবেদনের সংখ্যা ছাপিয়ে গিয়েছে ১ কোটি ৮০ লক্ষ। সুতরাং বাকি ২১ দিনে সেই আবেদন কত হবে, সেটা নিয়ে অর্থমন্ত্রকই যথেষ্ট চিন্তায়। কারণ সেক্ষেত্রে তড়িঘড়ি ডিমান্ড ফর গ্রান্টস সংসদে পাশ করিয়ে দ্রুত অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে। কারণ ৮৬ হাজার কোটি টাকার তহবিল প্রায় শেষের পথে। ১০০ দিনের কাজে সেপ্টেম্বর মাসে যে চাহিদা ছিল ১ কোটি ৮০ হাজার, ফেব্রুয়ারিতে সেটাই ২ কোটি ৬০ লক্ষ ৫৫ হাজার। সবচেয়ে বড় কথা, এই গোটা পরিসংখ্যান বাংলাকে বাদ রেখেই। ২০২২ সালের ৯ মার্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যের ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ। নতুন করে শ্রমদিবস তৈরির তো প্রশ্নই নেই। অথচ, এই বাংলাই বছরের পর বছর ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে সামনের সারিতে থেকেছে। অন্ন সংস্থান করেছে কোটি কোটি মানুষের।

Advertisement

১০০ দিনের কাজের নিয়ম হল, নির্দিষ্ট কোনও স্কিল না থাকা গ্রামবাসী নারী-পুরুষ কায়িক শ্রমের যে কোনও গ্রামীণ এলাকার প্রকল্পে কাজ করার জন্য আবেদন করবেন। নগরাঞ্চলে কাজের প্রচুর সুযোগ থাকলেই এই কাজের আবেদনে ভাটা পড়ে। গ্রামগঞ্জ ছেড়ে তখন এই শ্রমিকরাই শহরে চলে যায়। তাদের কর্মসংস্থান হয় প্রধানত শিল্পোৎপাদন এবং নির্মাণ শিল্পে। পাশাপাশি সরকারের পরিকাঠামো নির্মাণের প্রবণতা যখন বেশি থাকে, অর্থাৎ রাস্তা, সেতু, রেল প্রকল্পের কাজ অনেক বেশি হলেও প্রয়োজন হয় শ্রমিকের। বোঝা যাচ্ছে, কাজের অভাবই গ্রামীণ মানুষকে গ্রামেই কাজের জন্য মরিয়া হতে বাধ্য করেছে। আর সেই কারণেই বেড়েছে ১০০ দিনের কাজের চাহিদা। এটা অপ্রত্যা঩শিত নয়। কারণ, অর্থনীতির সূচক মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়। শিল্পোৎপাদনের হার কমেছে। উৎপাদন ক্ষেত্রে বিক্রির পরিমাণ ১৪ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। পণ্য বিক্রি কম হলে চাহিদা কমবে। সুতরাং উৎপাদনও কম হবে। চাহিদা কম কেন? মানুষের হাতে উদ্বৃত্ত অর্থই যে নেই! 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ