রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া: রাজ্যে ফের চালু হতে চলেছে ১০০ দিনের কাজ। রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তরের তরফে জেলায় জেলায় ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের ‘লেবার বাজেট’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা ওই নির্দেশিকা বিডিওদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। দ্রুত ‘লেবার বাজেট’ তৈরির পর তা জেলাস্তরে পাঠানোর জন্য বিডিওদের বলা হয়েছে। বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, দু’দিন আগে রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তরের ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার প্রতিটি জেলাকে চিঠি পাঠিয়ে ‘লেবার বাজেট’ তৈরির নির্দেশ দেন। সেইমতো আমরা বিডিওদের কাছ থেকে তা চেয়ে পাঠিয়েছি। এবার কাজ শুরুর ক্ষেত্রে বেশকিছু নতুন নিয়ম মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে। কাজের ধরনেরও পরিবর্তন হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা মতো পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকদের বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশের অন্যান্য রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ চললেও বাংলাকে দীর্ঘদিন ধরে ব্রাত্য রাখা হয়েছে। এরাজ্যের শ্রমিকরা কেন্দ্রীয় বঞ্চনার শিকার হন। কয়েকটি জায়গায় দুর্নীতির ঘটনাকে শ্রীখণ্ডী করে রাজ্যের সর্বত্র ওই প্রকল্প সরকার বন্ধ রাখে কেন্দ্রীয় সরকার। বঞ্চিত শ্রমিকরা আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত দ্রুত ১০০ দিনের কাজ চালুর নির্দেশ দেয়। এভাবে কোনও কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে একটি রাজ্যের উপভোক্তাদের বঞ্চিত করা যায় না বলে বিচারকরা মন্তব্য করেন। তারপরেও কেন্দ্রীয় সরকার নানা টালবাহানা করছিল। তবে, এবার যে ওই প্রকল্পের কাজ শুরু হতে চলেছে তা, ১৬ জানুয়ারি রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তরের মহাত্মা গান্ধী এনআরইজিএস বিভাগের কমিশনারের চিঠিতে স্পষ্ট হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কমিশনারের চিঠিতে ২১ জানুয়ারির মধ্যে পঞ্চায়েতস্তরে সম্ভাব্য প্রকল্পের তালিকা চূড়ান্ত করতে হবে। তারজন্য আধিকারিকদের সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যেতে হবে। ২২ জানুয়ারি বিশেষ গ্রামসভা ডেকে তা পাশ করাতে হবে। ২৭ জানুয়ারি ব্লকস্তরে তা মঞ্জুর করে জেলায় অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হবে। জেলাস্তর থেকে ৩০ জানুয়ারি ওই প্রকল্পের তালিকা রাজ্যে পাঠানো বাধ্যতামূলক। ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জেলাস্তর থেকে উঠে আসা প্রকল্পসমূহ রাজ্যকে নির্দিষ্ট জায়গায় নথিভুক্ত করতে হবে।
এবার প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে কী কী বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে? এক আধিকারিক বলেন, ২০ লক্ষ টাকার উপরে কোনও প্রকল্প অনুমোদন করা যাবে না। গ্রাম পঞ্চায়েত পিছু একসঙ্গে ১০টির বেশি প্রকল্পে কাজ চালু রাখা যাবে না। প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে জেলাশাসক বা জেলা প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটরের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একটি প্রকল্পকে একাধিক ভাগে ভাগ করা যাবে না। স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি হবে না, এমন কোনও কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হয়েছে। আগের মতো পুকুর, সেচখাল সংস্কার বা মাটি কাটার কাজ করার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ওই ধরনের প্রকল্প ‘অ্যাকশন প্ল্যানে’ রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রকল্প রূপায়ণের আগে বিডিওদের খুঁটিনাটি দেখার জন্য নির্দেশিকায় বলা হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র