Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এক ঘণ্টায় ১০ শতাংশ রিটার্নের টোপ, দাসপুরে ৪ লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই

এক লক্ষ টাকা দিলে এক ঘণ্টার মধ্যে মিলবে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। লোভে পড়ে সেই টোপ গিলে চার লক্ষাধিক টাকা দিতে গিয়ে ছিনতাইবাজদের খপ্পরে পড়ে দুই যুবক।

এক ঘণ্টায় ১০ শতাংশ রিটার্নের টোপ, দাসপুরে ৪ লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই
  • ২৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: এক লক্ষ টাকা দিলে এক ঘণ্টার মধ্যে মিলবে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। লোভে পড়ে সেই টোপ গিলে চার লক্ষাধিক টাকা দিতে গিয়ে ছিনতাইবাজদের খপ্পরে পড়ে দুই যুবক। শুক্রবার দুপুরে দাসপুর থানার আমডাংরার মাঠে ওই টাকা ছিনতাই হয় বলে অভিযোগ। পুলিস অভিযোগ পাওয়ার পরই বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালায়। সুজয় দাস সহ ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘাটাল মহকুমা পুলিস আধিকারিক দুর্লভ সরকার বলেন, ওই ঘটনায় শুক্রবার রাতেই ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতরা দাসপুর ও চন্দ্রকোণা থানা এলাকার বাসিন্দা। সিংহভাগ টাকা উদ্ধার করা সম্ভর হয়েছে। ছিনতাইয়ের ছক কষেছিল ধৃত সুজয়। তার বাড়ি দাসপুর থানার কল্মিজোড়ে। বছর ৪০-এর সুজয় পেশা তাবিজ-কবচ দিত। তুকতাকও করত। পুলিস তদন্তে নেমে জানাতে পেরেছে, দাসপুর থানা এলাকায় সুজয়ের একটি গ্যাং রয়েছে। তারা ‘ভালো মানুষ’ সেজে ছিনতাই, নকল সোনার বিস্কুট বিক্রি সহ নানা চক্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। কোনও বিনিয়োগ ছাড়াই শুধুমাত্র ‘জাদুবলে’ এক নিমেষে টাকা বাড়িয়ে দেওয়া সুজয়েরই ‘নতুন ব্যবসা’ ছিল। এই প্রতারণার মধ্যেও সুজয়ের একটা ‘নীতি’ ছিল। টাকাকে ইচ্ছে খুশি বাড়ানো যাবে না। সুজয় পুলিসকে জানিয়েছে, সর্বাধিক ১০শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো যাবে বলেই সে প্রতারণার ব্যবসা শুরু করেছিল। বেশি টাকার কথা বললে অনেকের অবিশ্বাস হতে পারে। তাই সে ওই পন্থা নেয়।

Advertisement

কিছুদিন আগে সুজয়ের শাগরেদ ওই থানারই নাড়াজোলের বাসিন্দা সন্তু কালসারের বাড়িতে টাকা বাড়ানোর একটি ‘ক্যাম্প’ করা হয়েছিল। যেখানে চন্দ্রকোণা থানার খামারবেড়িয়ার সুদীপ পাল টাকা সঙ্গে সঙ্গে বাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। সুদীপ বলেন, আমি পাঁচ হাজার টাকা দিতেই সঙ্গে সঙ্গে আমাকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে দিয়েছিল। এজন্য প্রণামী স্বরূপ কিছু দিতে হয়েছিল। ওই ক্যাম্প থেকে ফিরে গিয়েই সুদীপ বাড়িতে গিয়ে নানাভাবে টাকা সংগ্রহ করে। শনিবার চার লক্ষ ২০হাজার টাকা বাড়িয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সুজয়কে ফোন করে টাকা নেওয়ার জায়গা হিসেবে নাড়াজোল আমডাংরার মাঠ এলাকা ঠিক করা হয়। সুদীপ তাঁর এক পরিচিত শুভেন্দু দণ্ডপাটকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। সুদীপ বলেন, দুপুর আড়াইটায় আমডাংরার মাঠের কাছে হাজির হতেই তিনটি বাইকে করে ছ’জন এসে আমাকে ঘিরে ধরে। আমার কাছ থেকে ৪ লক্ষ ২০হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। নাড়াজোল পুলিস ক্যাম্পে বিষয়টি জানাই। তারপরই দাসপুর থানার ওসির নির্দেশে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়। ফোন ট্র্যাক করে দাসপুর থানা এলাকা থেকে মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে চন্দ্রকোণা থানার পুলিস আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। 
ছিনতাইয়ের সময় সুজয়ের গ্যাংয়ের সঙ্গে ছিল তার ভাগ্নে দাসপুর থানার ডিহিপলসার বলরাম দাস। ছিনতাইয়ের তিন লক্ষ ৭০ হাজার টাকা বলারামের বাড়িতে রাখা ছিল। পুলিস সেই টাকাও উদ্ধার করে। সেইসঙ্গে তিনটি বাইকও পুলিস উদ্ধার করেছে। এদিন তাদের ঘাটাল আদালতে তোলা হলে বিচারক তিনদিন পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। এসডিপিও বলেন, ওই ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন যুক্ত রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ