Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুর্শিদাবাদে গত দু’মাসে বজ্রাঘাতে মৃত ১০, চিন্তায় পরিবেশ বিজ্ঞানীরা

মাত্র দু’মাসেই বজ্রপাতে মুর্শিদাবাদ জেলায় মৃত্যু হয়েছে দশজনের। বৈশাখ ও জৈষ্ঠ মাসে ধারাবাহিক বৃষ্টি না হলেও মাঝেমধ্যেই আকাশজুড়ে দেখা গিয়েছে বজ্রগর্ভ মেঘ।

মুর্শিদাবাদে গত দু’মাসে বজ্রাঘাতে মৃত ১০, চিন্তায় পরিবেশ বিজ্ঞানীরা
  • ২১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মাত্র দু’মাসেই বজ্রপাতে মুর্শিদাবাদ জেলায় মৃত্যু হয়েছে দশজনের। বৈশাখ ও জৈষ্ঠ মাসে ধারাবাহিক বৃষ্টি না হলেও মাঝেমধ্যেই আকাশজুড়ে দেখা গিয়েছে বজ্রগর্ভ মেঘ। ফলে আচমকাই বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছে সাধারণ মানুষের। অধিকাংশ মৃত্যুই মাঠে কাজ করার সময় ঘটেছে।  জেলা বিপর্যয় ব্যবস্থাপন দপ্তরের আধিকারিক কমল চক্রবর্তী বলেন, গোটা জেলায় যে সব ব্যক্তির বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের তালিকা আমরা প্রস্তুত করেছি। গত ১৭ এপ্রিল থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত মোট দশজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের বাড়ি অবশ্য মালদহ জেলায়। মুর্শিদাবাদে থাকাকালীন বজ্রপাতে ওই ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। মৃত মানুষগুলির পরিবার যাতে রাজ্য সরকারের আর্থিক সাহায্য পায়, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে জুলাই ও  আগস্ট মাসে সেভাবে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেনি। 

Advertisement

জেলা বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দপ্তরের তথ্য অনুসারে, চলতি বছরে প্রথম বজ্রপাতে মুর্শিদাবাদে মৃত্যু হয় গত ১৭ এপ্রিল। একই দিনে পরপর দু’জনের মৃত্যু ঘটে। সাগরপাড়ার বাসিন্দা বৃদ্ধ কুমারেশ ঘোষের মৃত্যু হয় আবার হরিহরপাড়ার শ্যামল মালেরও ওইদিন বজ্রপাতেই মৃত্যু ঘটে। এরপর ২৮ এপ্রিল কাজল বাইনের মৃত্যু হয়। কাজলবাবুর বাড়ি খড়গ্রামের ঈশানপুর এলাকায়। মাঠে কাজ করার সময় তিনি বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান। দু’দিন বাদেই ৩০ এপ্রিল হরিহরপাড়া ডালটনপুরের বালকসাগর শেখ মাঠ থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। গত ১ মে বহরমপুরের শাহানুর বিবিও মারা যায়। ৬ মে জলঙ্গি সাহেবরামপুরের বাসিন্দা নূর ইসলাম মাঠে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে মারা যান। ১৩ মে মুর্শিদাবাদে এসে বজ্রাঘাতে মারা যান মালদহের বাসিন্দা জয়ন্ত রায়ের। গত ১৮ মে নবগ্রামের বাসিন্দা জয়দেব ঘোষ বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান। ইসলামপুরের রঘুনাথগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সেবারুল শেখ ১৩ মে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান। বড়ঞা থানা এলাকার কল্যাণপুর গ্রামের পূর্ণচন্দ্র বাগদির মৃত্যু হয় ২৫ জুন। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে বর্ষার বৃষ্টি শুরু হওয়ায় সেভাবে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। মাঝেমধ্যে বজ্রপাত হলেও চাষিরা সতর্ক হয়ে বাজ পড়ার আগেই বাড়িতে বা কোনও আশ্রয়ে চলে গিয়ে দুর্ঘটনা এড়ান। 
কিন্তু প্রতিবছর বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে বলেই মত পরিবেশ বিজ্ঞানীদের। কারণ বাজ পড়ার মতো ঘটনাওবাড়ছে। এতে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। সাধারণত কিউমুলোনিম্বাস মেঘ থেকে বজ্রপাত ও বৃষ্টি হয়। 
সেই কারণে এই ধরণের মেঘকে বজ্রগর্ভ মেঘও বলা হয়। গত কয়েক বছর ধরে বজ্রগর্ভ মেঘ বাড়ার অন্যতম কারণ যেমন বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য, তেমনই আর একটি কারণ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া। যার জন্য প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি মূলত দূষণকেও দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।  আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বাতাসে দূষণ বাড়ার জন্য মেঘের মধ্যে ধূলিকণা বেড়ে চাপ ও তাপের তারতম্য হচ্ছে। ফলে অনেক বেশি পরিমাণে বজ্রগর্ভ মেঘ বা থান্ডার ক্লাউড তৈরি হচ্ছে। উঁচু, উঁচু ফ্ল্যাট বাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। কমছে বড় গাছ। সেজন্য বায়ুপ্রবাহের ধরণ বদলেছে। সেটাও বেড়ে চলা বজ্রপাতের অন্যতম কারণ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ