Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জঙ্গলে তাঁবু খাটিয়েই বিক্রি কনস্টেবল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র! ফিল্মি কায়দায় অভিযান তিন থানার পুলিশের, ধৃত ১০

আউশগ্রামের জঙ্গলমহলে তাঁবু খাটিয়ে কনস্টেবল পরীক্ষার ‘প্রশ্নপত্র’ বিক্রি চলছিল।

জঙ্গলে তাঁবু খাটিয়েই বিক্রি কনস্টেবল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র! ফিল্মি কায়দায় অভিযান তিন থানার পুলিশের, ধৃত ১০
  • ১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান, আসানসোল ও সংবাদদাতা, মানকর: আউশগ্রামের জঙ্গলমহলে তাঁবু খাটিয়ে কনস্টেবল পরীক্ষার ‘প্রশ্নপত্র’ বিক্রি চলছিল। অভিযোগ পাওয়ার পর বর্ধমান, আউশগ্রাম ও বুদবুদ থানার পুলিশ ফিল্মি কায়দায় সেখানে অভিযান চালায়। সেখান থেকে সাতজনকে পাকড়াও করা হয়। আরও তিনজনকে বর্ধমান স্টেশন থেকে গ্রেফতার করা হয়। বুদবুদ থানার দেবশালা পঞ্চায়েতের কলমডাঙা গ্রামে ক্যাম্প করে প্রতারণা চলছিল। ধৃতরা পুরুলিয়া, নদীয়া, মালদহ জেলার বাসিন্দা। তিনদিক থেকে তাঁবু ঘিরে ফেলে তাদের পাকড়াও করা হয়।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড থেকে প্রশ্নপত্র বিক্রির ‘ইনপুট’  বর্ধমানের সাইবার ক্রাইম থানায় আসে। সাইবার ক্রাইম থেকে বর্ধমান থানায়  বিষয়টি জানানো হয়। এরপরই শুরু হয় ‘অপারেশন’-এর প্রস্তুতি। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসে চড়ে চক্রের তিনজন নদীয়া থেকে বর্ধমান স্টেশনে আসছে। তাদের ছবি আগে থেকেই পুলিশের কাছে ছিল। বর্ধমান থানা ও জিআরপি অভিযান চালিয়ে তাদের পাকড়াও করে।  তারা প্রশ্নপত্র নেওয়ার জন্য এসেছিল। ধৃতরা জানায় মুর্শিদাবাদের এক ব্যক্তির নির্দেশে তারা বর্ধমানে আসে। সে তাদের প্রত্যেকের মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড, মার্কশিট নিয়েছে। প্রত্যেকের কাছে ১০হাজার টাকা করে নিয়েছিল। চক্রে বীরভূম ও নদীয়ার কয়েকজন জড়িত রয়েছে বলে তারা জানায়। পাশাপাশি, আউশগ্রামের জঙ্গলে ক্যাম্প করার কথাও তদন্তকারীরা জানতে পারেন।
তদন্তকারীরা বুদবুদ ও আউশগ্রাম থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একযোগে দেবশালার কলমডাঙায় অভিযানে নামে পুলিশ। অভিযোগ, গ্রামের ফুটবল খেলার মাঠে প্যান্ডেল করে ক্যাম্প করা হয়েছিল। সেখানে অনেকেই প্রশ্নপত্র নিতে এসেছিল। সেখানে পুলিশ পৌঁছতেই অনেকে পালিয়ে যায়। ধরপাকড়ের সময় একজন নিজেকে সেনা জওয়ান বলে পরিচয় দেয়। জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, স্ত্রীর চাকরির জন্য এখানে এসেছিল। এই ঘটনায় সাতজনকে পুলিশ আটক করে বর্ধমানে নিয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ শূন্যে গুলি চালায়। যদিও পুলিশ তা স্বীকার করেনি। ক্যাম্পের কাছে দেবশালা পঞ্চায়েতের জলের ট্যাঙ্ক, ইকো গাড়ি ও একটি চারচাকা ছিল। সেগুলি পুলিশ আটক করেছে।
দেবশালা গ্রামপঞ্চায়েতের উপ-প্রধান সোমনাথ চৌধুরী বলেন, রেজ্যুলিউশন অনুযায়ী জলের ট্যাঙ্ক ছাড়া হয়। দু’দিন আগে একজন মারা গিয়েছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে পরিবারের লোকজন ট্যাঙ্কটি নিয়ে গিয়েছিল। শনি ও রবিবার পঞ্চায়েত ছুটি ছিল। তারপর কী হয়েছে জানা নেই। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, কনস্টেবল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়নি। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছিল।
পশ্চিমবঙ্গ পু঩লিশের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে প্রতারকরা ঝাড়খণ্ডে ডেরা বাঁধে। ধানবাদ জেলার ঝরিয়া থানার একটি হোটেল থেকে  শনিবার রাতে ১৭জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ২৭৩জন পড়ুয়ার অ্যাডমিট কার্ড বাজেয়াপ্ত হয়েছে। পুলিশের দাবি, চাকরিপ্রার্থীদের দু’-পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র দেওয়া হচ্ছিল। প্রতারকরা চাকরিপ্রার্থীদের আধার ও ভোটার কার্ড নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছিল। প্রতারকদের কাছ থেকে ৬৭টি মোবাইল বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বিপুল সংখ্যক মোবাইলের মধ্যে বেশিরভাগই চাকরিপ্রার্থীদের। ধানবাদ সিটি পুলিশ এসপি রিতভিক শ্রীবাস্তব বলেন, ১৭জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ