নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: জেলাজুড়ে পুলিসি নজরদারি বাড়াতে বাড়তি সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে চলেছে নদীয়া জেলা পরিষদ। বুধবার জেলা পরিষদের একটি বৈঠকে নদীয়ার দুই পুলিস জেলা, কৃষ্ণনগর ও রানাঘাটকে সিসি ক্যামেরার জন্য এক কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুপাতে এই টাকা দুই পুলিস জেলার মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রাজ্যে পালাবদলের পর পুলিসি পরিকাঠামোয় জোর দিয়েছিল তৃণমূল সরকার। কলকাতা ছাড়াও রাজ্যের বড় বড় শহরগুলিতে পুলিসের খোলনলচে বদলে ফেলা হয়। বাড়তি নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রামীণ এলাকাগুলিকেও পুলিস জেলায় ভেঙে দেওয়া হয়। অনুরূপ পদ্ধতিতে নদীয়া জেলা ভেঙে করা হয় কৃষ্ণনগর এবং রানাঘাট পুলিস জেলা। এরমধ্যে কৃষ্ণনগর পুলিস জেলায় সাইবার এবং মহিলা থানা বাদ দিয়ে রয়েছে ১৪টি থানা রয়েছে। দক্ষিণে রানাঘাট পুলিস জেলায় সাইবার এবং মহিলা থানা বাদ দিয়ে রয়েছে ৯টি থানা এলাকা। কৃষ্ণনগর জেলা পুলিসে রয়েছে কোতোয়ালি, কালীগঞ্জ, চাপড়া, কৃষ্ণগঞ্জ, নবদ্বীপ, ভীমপুর, নাকাশিপাড়া, ধুবুলিয়া, তেহট্ট, করিমপুর, পলাশীপাড়া, হোগলবেড়িয়া প্রভৃতি থানা। আর রানাঘাট পুলিস জেলায় রয়েছে রানাঘাট, ধানতলা, হাঁসখালি, শান্তিপুর, তাহেরপুর, গাংনাপুর, চাকদহ, কল্যাণী এবং হরিণঘাটা।
যদিও পৃথক পুলিস জেলা হওয়ার পরেও বহু এলাকাকে এখনও সিসি ক্যামেরার নজরদারির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এহেন সমস্যার মূল কারণ ছিল টাকার অভাব। এবার সেই সমস্যার সমাধানেই এগিয়ে এল নদীয়া জেলা পরিষদ। এদিনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, নদীয়ার দুই পুলিস জেলাকে সিসি ক্যামেরা বসানোর জন্য পঞ্চম রাজ্য অর্থ কমিশনের টাকা থেকে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে। মোটামুটি গড়ে ৫০ লক্ষ টাকা করে পাবে রানাঘাট এবং কৃষ্ণনগর। দুই পুলিস জেলাকেই অনুরোধ করা হবে, কোন এলাকায় নজরদারির জন্য কতগুলি সিসি ক্যামেরার প্রয়োজন রয়েছে, তার তালিকা দেওয়ার।
নদীয়া জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আমরা দেখেছি অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব রয়েছে। আজকের দিনে অপরাধ দমনে সিসি ক্যামেরার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই আমরা ঠিক করেছি, কৃষ্ণনগর এবং রানাঘাট পুলিস জেলাকে এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেব। যাতে তারা সেই টাকায় সিসি ক্যামেরা বসাতে পারে। বুধবার আমরা কাগজে-কলমে বরাদ্দ করে দিয়েছি। পরবর্তীকালে আরও সিসি ক্যামেরা বসানোর জন্য টাকা বরাদ্দ করা যায় কি না, সেই বিষয়টিও আমাদের পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।