Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

মাথার দাম ১০০ কোটি! ইরানের নয়া প্রধানকে সরাতে মরিয়া ট্রাম্প

বাবার পর টার্গেট ছেলে! ইরানের নতুন ‘সুপ্রিম লিডার’ মোজতবা খামেনেইকেও সরাতে মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই এবার আমেরিকা সরকারের তরফে ঘোষণা হল খামেনেই-পুত্রের মাথার দাম

মাথার দাম ১০০ কোটি! ইরানের নয়া প্রধানকে সরাতে মরিয়া ট্রাম্প
  • ১৫ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ওয়াশিংটন: বাবার পর টার্গেট ছেলে! ইরানের নতুন ‘সুপ্রিম লিডার’ মোজতবা খামেনেইকেও সরাতে মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই এবার আমেরিকা সরকারের তরফে ঘোষণা হল খামেনেই-পুত্রের মাথার দাম—মোজতবা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেই মিলবে ১ কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার। ভারতীয় মুদ্রায় যার বর্তমান মূল্য ৯২ কোটি ৪৭ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা। একইসঙ্গে ইরানের আরও কয়েকজন শীর্ষনেতার মাথার দাম হিসাবে মোটা অংকের অর্থমূল্য ঘোষণা করেছে আমেরিকা। শুধু পুরস্কার ঘোষণা করেই থামেননি ট্রাম্প। ইরানের হাতে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী দখলের জন্য চীন, জাপান, ফ্রান্স, ব্রিটেনের মতো ‘বন্ধু’ দেশগুলির কাছে আরজিও জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, সকলে মিলে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে ওই এলাকাকে দখলমুক্ত করা হবে। ইতিমধ্যে ইরানের ‘মাথা’ তাঁরা কেটে ফেলেছেন। তবু ওই জলপথে অল্পস্বল্প হামলা চলতে পারে বলেই আশঙ্কা মার্কিন প্রেসিডেন্টের।

Advertisement

আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যু হয় আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে নিযুক্ত হন তাঁর ছেলে মোজতবা। বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি আমেরিকা। ট্রাম্প চিরতরে সরানোর হুমকি দেন মোজতবাকে। পালটা হুঁশিয়ারি দেয় ইরানও। তবে সেসব যে একেবারেই আমল দেয়নি মার্কিন প্রশাসন, তা স্পষ্ট হয়েছে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক ঘোষণায়। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই সহ ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে যুক্ত একাধিক শীর্ষ কর্তার মাথার দাম ঘোষণা করেছে আমেরিকার বিদেশ মন্ত্রক। শুক্রবার ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির মাধ্যমে এই ঘোষণা করা হয়।
ডিপ্লোম্যাটিক সিকিওরিটি সার্ভিস পরিচালিত এই কর্মসূচির বিবৃতিতে যেসব ইরানি নেতার নাম রয়েছে তাদের মধ্যে প্রথমেই আছেন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। এছাড়া তাঁর উপপ্রধান আলি আসগর হেজাজি, গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাটিব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক্সার মোমেনি, ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা তথা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানিও রয়েছেন তালিকায়। এই সমস্ত ব্যক্তিরা আইআরজিসির বিভিন্ন অংশকে পরিচালনা করেন বলেই দাবি আমেরিকার। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারও কাছে যদি এই নেতাদের অবস্থান, যোগাযোগ বা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য থাকে, তবে তা বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে গোপনে পাঠাতে হবে। এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম বা টর নেটওয়ার্কের নিরাপদ চ্যানেলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন তারা। তথ্য সঠিক হলে মিলবে বিপুল অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের সুযোগও দেওয়া হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, পুরস্কার ঘোষণা করে দারুণ চাল দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের উপর তারা এভাবে চাপ বাড়াতে চাইছে। সেই কারণেই এহেন পদক্ষেপ। ইতিমধ্যেই মোজতবা গুরুতর আহত, কার্যত কোমায় চলে গিয়েছেন বলে খবর ছড়িয়েছে। স্বয়ং ট্রাম্প এই গুজডবে ইন্ধন জুগিয়েছেন। যদিও শনিবার সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘সুপ্রিম লিডার’ সুস্থ রয়েছেন। উনি কোনো সমস্যার সম্মুখীন হননি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ