Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাঁচল হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্সকে হুমকি জেলা পরিষদের সদস্যর স্বামীর

হাসপাতালের এইচডিইউ বিভাগে ঢুকে কর্তব্যরত মহিলা নার্সকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে

চাঁচল হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্সকে হুমকি জেলা পরিষদের সদস্যর স্বামীর
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, চাঁচল: হাসপাতালের এইচডিইউ বিভাগে ঢুকে কর্তব্যরত মহিলা নার্সকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। বুধবার মালদহের চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের এই ঘটনার পর আতঙ্কে রয়েছেন নার্সরা। বৃহস্পতিবার তাঁরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে হাসপাতালের সুপারের কাছে ডেপুটেশন দেন। 

Advertisement

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে এইচডিইউ বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় এক প্রৌঢ়ার। তিনি এক তৃণমূল নেতার মা। স্বাস্থ্য আইনে মৃত্যুর চার ঘণ্টা পর দেহ ছাড়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু মৃতার পরিজনদের আবেদনের ভিত্তিতে দ্রুত দেহ ছেড়ে দেওয়ার জন্য ১০টা ১০ মিনিট মিনিটে কাগজপত্র তৈরির কাজ শুরু করা হচ্ছিল। সেই সময় এইচডিইউ বিভাগে ঢুকে পড়েন তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্য সাইরা বানু ও তাঁর স্বামী প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য ও মালদহ জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক সামিউল ইসলাম সহ কয়েকজন। ওয়ার্ডে একসঙ্গে এতজনকে ঢুকতে দেখে কর্তব্যরত নার্স রিক্তা সরকার প্রশ্ন করেন,কেন এতজন ঢুকলেন? তখনই মেজাজ হারান জেলা পরিষদ সদস্য এবং তাঁর স্বামী। তাঁরা নার্সের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বলে অভিযোগ। এমনকী নার্সের দাবি, তৃণমূল নেতা হুমকি দিয়ে বলেন, আপনি মেয়ে নার্স না হলে মাথা কেটে হাতে ধরিয়ে দিতাম। এমন হুমকি শুনে ওয়ার্ডেই কান্নায় ভেঙে পড়েন রিক্তা। তিনি বলেন,কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণনাশের হুমকি শুনে ভয়ে কাঁপছিলাম। পুলিস ও বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তারক্ষীদেরও ওঁরা তোয়াক্কা করেননি। এভাবে নিরাপত্তাহীনতায় কীভাবে কাজ করব?
অন্যদিকে,সামিউলের সাফাই, নির্দিষ্ট সময়ের আগে দেহ ছাড়া হচ্ছিল। আমার স্ত্রী জনপ্রতিনিধি হিসেবে সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। ওই নার্স গেটআউট বলে তাঁকে বের করে দেন। আমার স্ত্রীকে মহিলা হিসেবে কলঙ্ক বলা হয়। তবে নার্সকে কোনও হুমকি দেওয়া হয়নি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে ১১২ জন নার্স রয়েছেন। বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তারক্ষীরা দিনরাত টহল দেন ওয়ার্ডগুলিতে। পুলিসও প্রহরায় থাকে। তবে, এক নার্স রেখা ভট্টাচার্য বলেন,আমরা পুরোপুরি নিরাপত্তা পাই না। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
হাসপাতালের সুপার সুমিত তালুকদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে থানায় জানানো হবে। নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য বৈঠক করা হয়েছে। পুলিসকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেওয়া হবে।
চাঁচল থানার এক আধিকারিক বলেন, অভিযোগ হলে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।  নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ