নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: সম্প্রীতি রক্ষায় ব্যর্থ কেন্দ্র। তাই রাষ্ট্রপতি পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন মেদিনীপুর সদর ব্লকের পাথরার ইয়াসিন পাঠান। তিনি কিছুদিনের মধ্যেই জেলাশাসকের কাছে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে চিঠি দেবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তে হতবাক এলাকার মানুষ। এদিন ইয়াসিন জানিয়েছেন, বর্তমানে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে। মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি করা হচ্ছে। আমি পুরস্কার পেয়েছিলাম সম্প্রীতির জন্য। সেই সম্প্রীতি তো নেই ভারতে। যা একেবারেই মেনে নিতে পারছি না। যেখানে আমি সারাটা জীবন সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছি। সেখানে এই হানাহানি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া পাথরার মন্দির এলাকার জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল বহু বছর আগে। কিন্তু সেই টাকা এখনও চাষিদের দেয়নি কেন্দ্র। এর ফলে আজও সমস্যায় রয়েছে চাষিরা। তাই রাষ্ট্রপতি পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। জেলাশাসকের কাছে এনিয়ে চিঠি দেব।
প্রসঙ্গত, মেদিনীপুর শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে কংসাবতী পাড়ে হাতিহল্কা গ্রামে বাড়ি ইয়াসিন পাঠানের। তাঁর বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে পাথরা গ্রাম। সেই গ্রামের ৩৪টি জীর্ণ মন্দির ও সৌধ রক্ষার তাগিদ ছোট বয়স থেকেই তাঁর মনে জাঁকিয়ে বসেছিল। অল্প বয়সেই ঐতিহাসিক এই মন্দির নিয়ে গবেষণা শুরু করেন ইয়াসিন। এনিয়ে নানা সমস্যায় তাঁকে পড়তে হয়েছিল। পরে তারই স্বীকৃতিতে ১৯৯৪ সালে তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি শঙ্করদয়াল শর্মা ‘কবীর সম্মান’-এ বরণ করেছিলেন তাঁকে। তবে তারপরও লড়াই থামাননি। তাঁর উদ্যোগেই তৈরি হয়েছিল পাথরা আর্কিওলজিক্যাল প্রিজার্ভেশন কমিটি। মন্দির সংস্কারের জন্য লাগাতার চেষ্টা চালানোর পর, ২০০৩ সাল নাগাদ কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। দ্রুত জমি অধিগ্রহণও করা হয়।
কিন্তু চাষিরা টাকা পাননি। পাশাপাশি ৩৪টি মন্দিরের মধ্যে মাত্র ১৯টি মন্দিরের সংস্কার হয়েছে। বাকি মন্দির জরাজীর্ণ ভাবেই পড়ে থাকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারাও। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ইয়াসিন পাঠান মুসলিম হয়েও হিন্দু মন্দিরের জন্য লড়াই চালিয়ে গেছেন। তাঁর লড়াইকে এলাকার মানুষ কুর্নিশ জানায়। বহু সম্মান পেয়েছেন ইয়াসিন বাবু। কিন্তু তাঁর বেশ কিছু দাবি এখনও পূরণ হয়নি। তাই পাথরা মন্দির এলাকাতে আসাও বন্ধ করেছেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা সন্দীপ মণ্ডল বলেন, ইয়াসিন বাবু এই এলাকার গর্ব। সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ ওঁকে ভালোবাসেন। ধর্ম নিয়ে অশান্তি হলেই উনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এছাড়া পাথরা এলাকার চাষিরা জমি দিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। তাঁদের সমস্যার সমাধান করতে না পারায় নিজেকে সব সময় দোষারোপ করেন ইয়াসিনবাবু। নিজস্ব চিত্র