Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সাইবার প্রতারণার মামলায় বেঠিক পন্থায় গ্রেপ্তার, তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন

সাইবার প্রতারণায় অভিযুক্তকে বেঠিক পন্থায় গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠল তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে। এমনকী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ধারা না দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

সাইবার প্রতারণার মামলায় বেঠিক পন্থায় গ্রেপ্তার, তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন
  • ২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: সাইবার প্রতারণায় অভিযুক্তকে বেঠিক পন্থায় গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠল তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে। এমনকী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ধারা না দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। আলিপুর আদালতে সিআইডির তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তার জেরে আদালতের উষ্মার মুখে পড়তে হল তদন্তকারী অফিসারকে। এক জায়গায় অভিযুক্তকে আটক করে অন্যত্র গ্রেপ্তার দেখানো হল কেন, এই প্রশ্নের কোনও ব্যাখ্যা আদালতের সামনে তুলে ধরতে পারেননি ওই তদন্তকারী আধিকারিক। এই ফাঁকের কারণেই অভিযুক্ত সৈয়দ নাসিরউদ্দিনকে জামিন দেয় আদালত। 

Advertisement

আদালত সূত্রে জানা যাচ্ছে, কলকাতার বাসিন্দা এক ব্যবসায়ী অনলাইনে বিনিয়োগকারী একটি অ্যাপের খোঁজ পান। সেখানে বলা হয়, বিভিন্ন শেয়ারে বিনিয়োগ করলে অল্প সময়ে ভালো টাকা রিটার্ন মিলবে।  কোন কোন শেয়ারে বিনিয়োগ করলে ভালো টাকা  পাওয়া যাবে, তার তালিকা রয়েছে। বাড়তি লাভের আশায় অভিযোগকারী প্রায় তিন লাখের কাছাকাছি টাকা বিনিয়োগ করেন। ওই টাকার রিটার্ন চাইলে তাঁকে বিভিন্নভাবে ঘোরানো শুরু হয়। প্রতারকরা জানায়, এখন টাকা তোলা যাবে না।  আরও কিছু বিনিয়োগ না করলে জমানো টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না বলেও জানায় জালিয়াতরা। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ওই ব্যবসায়ী সিআইডির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। সেখানে অভিযুক্ত হিসেবে নাম ছিল সৈয়দ নাসিরুদ্দিনের। সপ্তাহখানেক আগে আনন্দপুর থানা এলাকার একটি আবাসন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সিআইডি সূত্রে জানা যায়। আদালতে তোলা হলে তাকে ছ’দিনের পুলিসি হেফাজতে পাঠানো হয়।
হেফাজত শেষে শুক্রবার ফের নাসিরুদ্দিনকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী সুব্রত সর্দার মক্কেলের গ্রেপ্তারি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি আদালতকে বলেন, নাসিরুদ্দিনকে আটক করা হয় পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে। অথচ তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে আনন্দপুর এলাকার একটি আবাসন থেকে। যে সময় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে, তখন তো অভিযুক্ত পশ্চিম মেদিনীপুরে রয়েছে। ওই জেলা থেকে কলকাতা আসতে চার-পাঁচ ঘণ্টা লাগে।  তাহলে কী করে কলকাতার আনন্দপুর থেকে গ্রেপ্তার হল। কীসের ভিত্তিতে নাসিরুদ্দিনকে পাকড়াও করা হল, তার কোনও উপযুক্ত নথি নেই। গ্রেপ্তার পুরোপুরি বেআইনি। এরপরই আদালত নথি দেখিয়ে তদন্তকারী অফিসারের কাছে জানতে চায়, নাসিরুদ্দিনকে পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে আটক করা হয়েছিল কি না। ওই আধিকারিক হ্যাঁ বললে, আদালত প্রশ্ন তোলে, যদি পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে আটক করাই হয়ে থাকে, তাহলে অভিযুক্তকে আনন্দপুর থেকে গ্রেপ্তার দেখানো হল কেন? এর কোনও ব্যাখ্যা দিতে না তপেরে তদন্তকারী অফিসার চুপ করে যান। কেন আইটি’র ধারা যুক্ত করা হয়নি, তা জানতে চায় আদালত। এতেও কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তদন্তকারী আধিকারিক। এমনকী আটক কেন করা হয়েছে, তাও তদন্তকারী অফিসার আদালতের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেননি। এরপর আদালত সিআইডির আর কোনও বক্তব্যই শুনতে চায়নি। নিয়ম মেনে গ্রেপ্তার না করা এবং আইটি অ্যাক্টে মামলা না হওয়ায়, আদালত অভিযুক্তকে জামিন দিয়ে দেয়।    

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ