Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভিড় কমে যাওয়ার আশঙ্কায় শেষমুহূর্তে মোদি না আসার ঘোষণা, হতাশ কর্মীরা

দেশের প্রধানমন্ত্রীকে চোখের সামনে দেখতে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা তাহেরপুরে সভাস্থলে ভিড় জমিয়েছিলেন। আয়োজনের কোনও খামতি ছিল না।

ভিড় কমে যাওয়ার আশঙ্কায় শেষমুহূর্তে মোদি না আসার ঘোষণা, হতাশ কর্মীরা
  • ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: দেশের প্রধানমন্ত্রীকে চোখের সামনে দেখতে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা তাহেরপুরে সভাস্থলে ভিড় জমিয়েছিলেন। আয়োজনের কোনও খামতি ছিল না। কিন্তু, খারাপ আবহাওয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রীর কপ্টার না নামায় সবটাই ফ্যাকাশে হয়ে গেল। শুধু অডিও বার্তায় হতাশ হলেন কর্মী-সমর্থকদের অনেকে। আবহাওয়ার কারণে মোদি যে সভাস্থলে আসতে পারছেন না, সেটা আগেই চূড়ান্ত হয়ে যায়। কিন্তু, ভিড় হালকা হওয়ার আশঙ্কায় শেষমুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকা কর্মী-সমর্থকদের তা জানানো হয়নি। যাতে কর্মী সমর্থকরা সভাস্থল ছেড়ে না চলে যান তারজন্য সচেষ্ট ছিলেন বিজেপি নেতারা।  

Advertisement

এদিন মোদির সভা ঘিরে এলাহি আয়োজন করা হয়। বিরাট শামিয়ানার নীচে রাজনৈতিক জনসভা ও প্রশাসনিক সভার জন্য আলাদা জায়গা করা হয়। এসপিজি ছাড়াও মোতায়েন ছিল বিরাট পুলিশবাহিনী। দায়িত্বে ছিলেন এডিজি(দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার। তাহেরপুর থানা সংলগ্ন হেলিপ্যাড গ্রাউন্ড থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সভাস্থলের একাধিক রাস্তা প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। রানাঘাটের দিকে বীরনগরের কাছে এবং বাদকুল্লার দিকে তাহেরপুর ঢোকার আগে ড্রপগেট বসানো হয়েছিল। সেখানে আটকানো হয় গাড়ি। তাতে আমজনতাকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। প্রধানমন্ত্রী সভাস্থলে না আসায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা চরম হতাশ হন। মোদির না আসার বিষয়টি আগেই চূড়ান্ত হয়েছিল। তা সত্ত্বেও কেন তাঁদের যথা সময়ে জানানো হল না, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলের কর্মীরা। কেউ কেউ বলেই ফেলেন, মঞ্চের সামনে বসে অডিও বার্তা কী শুনব? টিভিতে তো রোজই দেখি। তারজন্য বসে থাকার কোনও মানে হয় না। সভাস্থল ফাঁকা হওয়া আটকাতে আমাদের না জানিয়ে বসিয়ে রাখা হল। এটা ঠিক নয়। 
মোদি না আসায় বঙ্গ বিজেপির নেতারাও হতাশ। তাঁদের শরীরিভাষায় তা ফুটে ওঠে। কর্মীদের দাবি, নিচুতলায় অনেক লড়াই করে দল করতে হয়। নেতৃত্বের কাছে তার কোনও প্রশংসাই জুটল না। সভাস্থলে আসা মতুয়া সুমন বিশ্বাস বলেন, বিজেপির রাজ্য নেতারা আমাদের নাগরিকত্ব নিয়ে অনেক আশার কথা শুনিয়েছেন। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রীর অডিও বার্তায় আমাদের নিয়ে কোনও কথাই শোনা গেল না। এতে মতুয়াদের বিজেপির বিরুদ্ধে উস্কে দেওয়ার সুযোগ পাবে তৃণমূল কংগ্রেস। সবচেয়ে বড় কথা, প্রধানমন্ত্রীকে সামনে থেকে দেখতে পেলেও দলের কর্মীরা কিছুটা উৎসাহিত হতেন।
সভাস্থল ভরাতে মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর ২৪পরগনা থেকে ঢালাও ভিআইপি এবং ভিভিআইপি পাস বিলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, ভিপিআইদের চেয়ার ছিল সীমিত। ফলে চেয়ার না পাওয়ায় পাস হাতে ধাক্কাধাক্কি করেন গেরুয়া কর্মীরা। জঙ্গিপুর থেকে আসা সুরজিৎ পোদ্দার বলেন, আসনের তুলনায় বেশি ভিআইপি পাস বিলি করায় গোলমাল হয়েছে। জায়গা না পেয়ে সাংবাদিকদের জন্য বরাদ্দ জায়গায় এসে ‘আশ্রয়’ নিতে বাধ্য হন বিজেপির ‘ভিআইপি’ কর্মী-সমর্থকরা। 
 এদিন নদীয়ার বেশ কয়েকটি জায়গায় মতুয়াদের তরফে মোদি বিরোধিতার পোস্টারও নজরে এসেছে। এমনকি বাদকুল্লায় বিক্ষোভও হয়েছে। এছাড়াও চাকদহে ‘গো ব্যাক মোদি’ লেখা হোর্ডিংও দেখা দিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ