


অভিষেক পাল, বহরমপুর: পুজোর আগেই ফরাক্কার চার লেনের নতুন সেতুর কাজ শেষ হবে। ফরাক্কার এই দ্বিতীয় সেতু চালু হলে পুরো বদলে যাবে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার লম্বা এই সেতুর কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের ২০ ডিসেম্বর। লক্ষ্য ছিল ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কাজ শেষ হবে। কিন্তু বারবার কাজের বিলম্ব হয়। ফরাক্কা ব্যারাজের উপর বর্তমান যে সেতুটি আছে সেটি দু'লেনের। অথচ সেতুর দু'দিকেই ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে চার লেনের সড়ক। ফলে দিনের বেশ কিছু সময় যানজটের জেরে দুর্ভোগ বাড়ে পথচারীদের। যদি চলতি বছরেই এটি চালু করা হয় তবে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ফরাক্কার ডাউনস্ট্রিমের ৫০০ মিটার দূরে গঙ্গার উপর চার লেনের নতুন সেতু তৈরির ছাড়পত্র দেয়। চার লেনের এই নতুন সেতু যানজটের দুর্ভোগ থেকে মানুষকে মুক্তি দেবে। ফরাক্কা বাঁধের নিরাপত্তাও অনেকটাই সুরক্ষিত হবে বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যখন বর্তমান ফরাক্কা সেতু চালু হয় তখন জাতীয় সড়ক ছিল ৩৪ নম্বর। তখন জাতীয় সড়কও ছিল দুই লেনের। এখন জাতীয় সড়কের নাম হয়েছে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। আগে যানবাহন চলাচলের সংখ্যাও ছিল হাজার তিনেক। এখন সেই জাতীয় সড়কে যানবাহনের সংখ্যা চার গুন বেড়ে ১২ হাজার পেরিয়েছে। ফোর লেনের সড়ক পথও তৈরি হয়েছে। ফলে যানজটে নাজেহাল অবস্থা নিত্যদিনই। দ্রুত নতুন সেতু চালু হলে তা সকলেরই সুবিধা হবে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অ্যাপ্রোচ রোডসহ সেতুর মোট দৈর্ঘ্য হবে ৫.৪৬৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে নদীর উপর মূল সেতুর অংশ ২.৫৮ কিলোমিটার। বাকি অংশ দু'ধারের সংযোগ সড়ক। ফোর লেনের এই সেতুটি চওড়ায় হবে ২৫ মিটার অর্থাৎ ৮২ ফুট। প্রকল্পে বরাদ্দ ধরা হয় ৫২১ কোটি টাকা। সেতুতে সব মিলিয়ে ৮৪টি পিলার রয়েছে। একটি চিনা সংস্থার সঙ্গে বিশাখাপত্তনমের একটি সংস্থা এই সেতুর কাজের দায়িত্বে রয়েছে। নির্মাণের সময়সীমা বেড়ে যাওয়ার ফলে সেতুর খরচের অঙ্কও অনেকটাই বেড়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ফরাক্কার দ্বিতীয় সেতু নির্মাণে ৫২১ কোটির জায়গায় ৬২২.০৪ কোটি টাকা খরচ হবে। এখন কবে সেতু চালু হয় সেদিকে তাকিয়ে আছে জেলাবাসী।
নির্মাণকারী সংস্থার প্রকল্প আধিকারিক ভেঙ্কটেশ স্বামী মাসখানেক আগেই সেতু পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা প্রশাসনের কর্তারাও।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সকলেই জানান, চার লেনের এই নতুন সেতু দ্রুত চালু করার জন্য চেষ্টা চলছে। এর ফলে যানজটের দুর্ভোগ থেকে মানুষ মুক্তি পাবে। ফরাক্কা ব্যারেজের নিরাপত্তাও অনেকটাই সুরক্ষিত হবে। পুজোর আগে সেতুর কাজ শেষ হলে তা খুশির খবর সকলের কাছেই। অত্যধিক যান চলাচলের চাপে তার লকগেটগুলি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনই ক্ষতি হচ্ছে সেতুটিরও।