Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অন্ধত্ব দূরীকরণে মহিষাদলকে মডেল ব্লক করতে কাজ শুরু

অন্ধত্ব দূরীকরণে মহিষাদলকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মডেল ব্লক গড়তে সরকারি বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে কাজ শুরু হচ্ছে

অন্ধত্ব দূরীকরণে মহিষাদলকে মডেল ব্লক করতে কাজ শুরু
  • ২৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হলদিয়া: অন্ধত্ব দূরীকরণে মহিষাদলকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মডেল ব্লক গড়তে সরকারি বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে কাজ শুরু হচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর, মহিষাদল ব্লক ও পঞ্চায়েত প্রশাসন এবং হলদিয়ার রামকৃষ্ণ সারদা মিশন আশ্রম একসঙ্গে নয়া প্রকল্পে কাজ শুরু করছে মে মাস থেকে। জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে কাজ শুরু হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা, চোখের সমস্যা চিহ্নিতকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ছানি অপারেশন বা চশমা দেওয়া হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে। আগামী এক বছরের মধ্যে মহিষাদল ব্লককে ছানিমুক্ত মডেল ব্লক গড়ে তোলাই লক্ষ্য। একইসঙ্গে চোখের পরীক্ষার পর প্রয়োজনে সবাইকে চশমা দেওয়া হবে। বাড়ি বাড়ি সমীক্ষার পাশাপাশি ব্লকের সমস্ত প্রাইমারি ও হাইস্কুলেও পড়ুয়াদের চোখ পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। মহিষাদলের বিধায়ক তিলক চক্রবর্তী বলেন, ‘অ্যাভয়েডেবল ব্লাইন্ডনেস’ অর্থাৎ পরিহারযোগ্য অন্ধত্ব মুক্ত এই ব্লক জেলায় দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। ছানি অপারেশন বা চশমা পরলে এধরনের অন্ধত্ব এড়ানো যায় বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। সেজন্য ব্লক এলাকায় যাদের এখনও ছানি অপারেশন হয়নি বা চশমা প্রয়োজন, সবাইকে নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করে তার ব্যবস্থা করা হবে। হলদিয়ার রামকৃষ্ণ সারদা মিশন আশ্রম সহযোগিতা করছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। বিধায়ক আরও বলেন, বিভিন্ন শিবিরে চোখের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর যাদের ছানি অপারেশন হবে, তাদের রামকৃষ্ণ সারদা মিশন আশ্রমের চোখের হাসপাতাল নেত্রালয়ে পাঠানো হবে। এই প্রকল্পের কাজ কীভাবে শুরু হবে তা নিয়ে বৃহস্পতিবার ব্লক স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে বৈঠক হয়েছে।

Advertisement

বিধায়ক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলার ডেপুটি সিএমওএইচ সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, ডিস্ট্রিক্ট পাবলিক হেল্থ নার্স বাণী চক্রবর্তী, রামকৃষ্ণ সারদা মিশন আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক স্বামী বিবেকাত্মানন্দ মহারাজ, জেলা পরিষদ সদস্য পূর্ণেন্দু জানা, বিডিও বরুণাশিস সরকার, বিএমওএইচ শাহরুখ আজাদ, পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ও প্রধানরা। বিএমওএইচ বলেন, এই প্রকল্পের জন্য মে মাসের গোড়াতেই ব্লকের সমস্ত আশাকর্মী এবং স্কুল শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। আশাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা ও প্রাথমিক পরীক্ষার কাজ করবেন। ব্লকের ১১টি পঞ্চায়েতে দু’লক্ষাধিক মানুষকে নিয়ে সমীক্ষা করা হবে। চিহ্নিতকরণের পর যাঁদের চোখের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ৩৯টি উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এনে পরীক্ষা করা হবে। ডেপুটি সিএমওএইচ বলেন, সমস্ত ছানি বিনা খরচে অপারেশন করা হবে। এজন্য রামকৃষ্ণ সারদা মিশন আশ্রমের সঙ্গে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের মউ চুক্তি হয়েছে। বিবেকাত্মানন্দ মহারাজ বলেন, মহিষাদলকে আগামী দিনে যাতে সবাই অনুসরণ করে এমনভাবে যৌথ উদ্যোগে কাজ হবে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ