সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: ব্যস্ততা ও কখনও অসতর্কতার জন্য অনেকেই নৌকা থেকে নামতে গিয়ে জলে পড়ে যান। কেউ আবার মাঝনদীতে নৌকা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন। কিন্তু এবার দুর্ঘটনা রুখতে প্রশাসনের নির্দেশে নবদ্বীপ ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ গুচ্ছ ব্যবস্থা নিয়েছে। দুর্ঘটনা রুখতে নৌকার চারিদিকে কাঠের শক্ত রেলিংয়ের পাশাপাশি থাকবে লোহার শিকল। নৌকা পাড়ে আসতেই লোহার শিকল খুলে দেবেন মাঝি। তারপরই নৌকা থেকে নামবেন যাত্রীরা। এছাড়া নৌকার চারিদিকে কাঠের ব্যারিকেড দেওয়ায় সহজে কেউ নদীতে পড়ে যাবেন না। ফলে প্রাণহানির মতো ঘটনা অনেকটাই রোখা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ।
নবদ্বীপ জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির সম্পাদক সুশান্ত হালদার বলেন, গত ১৩ জুলাই জেলা পরিষদে নৌকা পরিবহণের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসনিক বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে নৌকায় দুর্ঘটনা রুখতে এসব সিদ্ধান্ত নেওয় হয়। ইতিমধ্যে আসন্ন ঝুলন এবং শিবনিবাসের মেলা উপলক্ষ্যে ১০টি নৌকায় এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আশা করছি এতে অনেকটাই নিরাপত্তা জোরদার হবে।
গত বছরে বিভিন্ন কারণে মোট চারজন নৌকা থেকে নদীতে পড়ে যান। একটি বালককে নৌকা থেকে তার সৎ দাদা জলে ফেলে দেয়। একজন ছাত্রী নৌকা থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন। আর দু’জন প্রবীণ মানুষ অসাবধানতাবশত নৌকা থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার হলেও বাকি তিনজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত নবদ্বীপ ফেরিঘাট দিয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। নবদ্বীপ থেকে মায়াপুর আবার মায়াপুর থেকে নবদ্বীপে নৌকায় যাতায়াত চলতেই থাকে। কেউ আবার স্বরূপগঞ্জ ও নবদ্বীপের মধ্যেও যাতায়াত করেন। প্রতিদিন নবদ্বীপ থেকে দু’টি ফেরিঘাটের মধ্যে যাতাযাত করে আটটি নৌকা।
মায়াপুরের বাসিন্দা কলেজ ছাত্রী সুভদ্রা মণ্ডল বলেন, নদী পেরিয়ে প্রতিদিন নবদ্বীপে যাতায়াত করি। এই যে লোহার শিকল দিয়ে যাত্রী ওঠা নামার জায়গায় ব্যারিকেড করা হয়েছে, এতে দুর্ঘটনা কমবে।
মায়াপুরের চরকাষ্ঠশালী বোর্ড প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক তরুণকুমার পাল বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই বাইরে থেকে নবদ্বীপ ও মায়াপুরে আসা পুণ্যার্থীরা তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে নদীতে পড়ে যান। জলপথ পরিবহণ সমিতির উদ্যোগে দুর্ঘটনা অনেকটাই এড়ানো যাবে। -নিজস্ব চিত্র