নিজস্ব প্রতিনিধি: কোচবিহার: কোচবিহারের মহারাজা জিতেন্দ্রনারায়ণ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দাঁতের চিকিৎসা করাতে চার মাস ধরে ঘুরতে হচ্ছে দিনহাটার নয়ারহাটের এক মহিলাকে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস, এতদিন ঘোরানোর পর সোমবার তাঁকে হাসপাতাল থেকে প্রাইভেটে ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। মহিলার আরও অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকের ফোন নম্বর পর্যন্ত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর মহিলা মেডিক্যালের এমএসভিপি’র কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আর এই ঘটনা সামনে আসার পরেই নড়েচড়ে বসে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ।
এদিনই তড়িঘড়ি চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপি ডাঃ সৌরদীপ রায়। সাত দিনের মধ্যে ওই তদন্ত কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। বিকেলে মেডিক্যালের দন্ত বিভাগের সিনিয়র ডাক্তার পরিতোষ হাঁসদাকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন সুপার। ওই দন্ত চিকিৎসক দাবি করেন,দাঁতের আরসিটি করতে অনেকগুলি সিটিং দিতে হয়। নির্দিষ্ট সময় অন্তর সেই কাজ আগে আসার ভিত্তিতে হয়ে থাকে। কিন্তু হাসপাতাল থেকে কেন কোনও ডাক্তারবাবু রোগীকে বাইরে ডাক্তার দেখানোর জন্য ফোন নম্বর দেবেন, তার সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। কোন চিকিৎসক এভাবে ফোন নম্বর দিয়েছেন তা খতিয়ে দেখা হবে বলে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
দিনহাটা থেকে চিকিৎসা করাতে আসা ওই রোগীর নাম তমিস্রা ভুঁইয়া। তিনি বলেন, দাঁতের সমস্যার কারণে জানুয়ারি মাসে মেডিক্যাল কলেজে আসি। এক্স-রে করতে বলা হয়েছিল। এক্স-রে করতে গেলে বলা হয়েছিল মেশিনের সমস্যা আছে। ১৫ দিন পর আসুন। তারপর গেলে বলা হয় এক সপ্তাহ পরে আসুন। এরপর নির্দিষ্ট সময়ে এলে এক্স-রে করা হয়। কিন্তু রিপোর্ট দেয়নি। অথচ অনেককে সেদিনই রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছিল। গত শনিবার মেডিক্যালে আসি। আমাকে বলা হয়েছিল সোমবার আসুন। ওই দিন দাঁত সিল করে দেওয়া হবে। কিন্তু আরসিটির কথা বললে বলা হয় আরসিটি এখন হবে না। বলা হয় মেডিক্যালে অনেক সময় লাগবে। বাইরে থেকে করাতে হবে। শিলিগুড়ি যাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়। আমার সামনেই অন্য রোগীদেরও ভিজিটিং কার্ড দেওয়া হয়েছে। বাধ্য হয়ে এমএসভিপি’র দ্বারস্থ হই।
কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যালের এমএসভিপি বলেন, চারজনের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
নিজস্ব চিত্র।