নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একটি পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাবে এখন কাশ্মীর ও হিমাচল প্রদেশে তুষারপাত চলছে। বৃষ্টি হচ্ছে উত্তর ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ প্রভৃতি রাজ্যে। এই ঝঞ্ঝাটির ঠিক পিছনে পিছনে আরো একটি ঝঞ্ঝা আসছে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নাগাদ। কিন্তু তারও কোনো সরাসরি প্রভাব রাজ্যে পড়বে না। জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। ঝঞ্ঝার আসা-যাওয়ায় শীতের মাত্রা ওঠানামা করবে। বৃহস্পতিবার সরস্বতী পুজোর দিন কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা কমেছিল। কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দক্ষিণবঙ্গে শীতলতম স্থান ছিল কল্যাণী (১০ ডিগ্ৰি)। উত্তরবঙ্গের সমতল এলাকা মধ্যে শীতলতম স্থান ছিল পুন্ডিবাড়ি। সেখানেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির আশপাশে ছিল। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, আগের ঝঞ্ঝাটি কিছুটা সরে যাওয়ার ফলে খানিকটা উত্তুরে হাওয়া এদিন এসেছে। তাই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সামান্য কমেছে। কিন্তু দিনদুয়েকের মধ্যে পশ্চিমি ঝঞ্ঝা ফের আসছে। ফলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বাড়বে। কলকাতায় ২৬ জানুয়ারি নাগাদ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের কোথাও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আপাতত ১০ ডিগ্রির নীচে থাকবে না। আর আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শীতের এইসময় পশ্চিমি ঝঞ্ঝার আসা-যাওয়ার ভিত্তিতে শীতের ওঠানামা চলবে। একটি ঝঞ্ঝার পর নতুন ঝঞ্ঝার আগমনে কয়েকদিনের ব্যবধান থাকলে সেই সময়ের জন্য শীতের মাত্রা একটু বেশি হবে। কারণ ঝঞ্ঝা চলে গেলেই, উত্তুরে হাওয়ার সক্রিয়তার কারণে শীতের মাত্রা বাড়ে। ২৬ জানুয়ারির পর, পশ্চিম হিমালয় এলাকায় ঝঞ্ঝা ফের কবে আসবে, সেই ব্যাপারে আবহাওয়া দপ্তর এখনো কিছু জানায়নি। তবে এইসময়ে ঝঞ্ঝার আসা-যাওয়া একটা নিয়মিত বা স্বাভাবিক ব্যাপার বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বাড়ছে দক্ষিণবঙ্গে। এর মূল কারণ সূর্যের অবস্থানগত পরিবর্তন। সূর্য এখন উত্তর গোলার্ধের দিকে সরে আসছে। তাই রোদ চড়া হচ্ছে আস্তে আস্তে। এর জন্য সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের আশপাশে থাকছে। কলকাতায় এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫.৬ ডিগ্ৰি। তাই কলকাতা ও লাগোয়া এলাকায় দুপুরে শীতের পোশাকের তেমন প্রয়োজন পড়ছে না। তবে শীতের বিদায় ঘণ্টা এখনই বাজাতে রাজি নন আবহাওয়াবিদরা।



