নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ কেলেঙ্কারির তদন্ত কি ভক্ত মণ্ডল পর্যন্ত এসেই থমকে যাবে? রাঘববোয়ালরা কি অধরা থেকে যাবে? এখন সেই প্রশ্নই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে প্রাক্তন রেজিস্ট্রারের কাজের মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিচারপতি বিস্মিত।
প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদালয়ের প্রায় দু’কোটি টাকা অর্থ তছরুপের ঘটনা নিয়ে সিআইডি তদন্ত শুরু করে। পরে লালবাজার তদন্তের দায়িত্বভার তুলে নেয়। প্রথম দিকে দ্রুত গতিতে তদন্ত চলতে থাকে। ভক্ত মণ্ডল নামে অর্থ বিভাগের এক কর্মীকে তারা গ্রেপ্তার করে। ভক্ত গ্রেপ্তারের পর বেশ কিছুদিন কেটে গিয়েছে। তারপর আর কেউ ধরা পড়েনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক বলেন, এতবড় কেলেঙ্কারি শুধু ভক্তের পক্ষে করা সম্ভব নয়। একদিনে এই কেলেঙ্কারি করা সম্ভব হয়নি। একাধিকবার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা হয়েছে। সেটা অর্থ বিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নজর কীভাবে এড়িয়ে গেল, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অ্যাকাউন্টে থাকা টাকাও তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের তৎপরতায় তা আটকানো গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা জেলার বাইরে বিভিন্ন এটিএম থেকে তোলা হয়েছে। যে বা যারা টাকা তুলেছিল, তারা এখনও অধরা থেকে গিয়েছে।
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এক ছাত্রী বলেন, পড়ুয়াদের টাকা তছরুপ করা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের কাছে থেকে ভর্তির যে ফি নেওয়া হয়, সেই টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হয়। যারা সেই টাকা হাতিয়ে নিল, তাদের প্রত্যেককের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর এক ছাত্র বলেন, তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিকরা তাঁদের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। কারণ টাকা ঠিক জায়গায় সুরক্ষিত রয়েছে কি না, সেটা তাঁদের দেখা উচিত। ফিক্সড ডিপোজিটের টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকে। সেটা ব্যাঙ্কে জমা হওয়ার পর টাকা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার সময় যিনি রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে ছিলেন তিনি অবসর নেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তাঁর আবার কাজের সময়সীমা বাড়ানো হয়। ৬২ বছর পর্যন্ত তিনি কাজ করবেন বলে জানানো হয়। তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এখন রেজিস্ট্রারের কাজ দেখার জন্য এক আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁর জায়গায় প্রাক্তন রেজিস্ট্রার আবার দায়িত্ব নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিকরা তা মানতে নারাজ। দু’পক্ষর টানাপোড়েন চলছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ আধিকারিক এবং পড়ুয়া চাইছেন অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় যাঁরা যুক্ত রয়েছেন তাঁদের প্রত্যেকের শাস্তি হোক। দৃষ্টান্তমূলক সাজা না হলে আবার সরকারি টাকা নয়ছয় হবে।