নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘আগামী বছর চতুর্থবারের জন্য বাংলায় সরকার গঠন করবে তৃণমূল।’—দেশের তরুণ প্রজন্মকে সাক্ষী রেখে খোলা মঞ্চ থেকে এই ঘোষণা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এবং তাঁর সংযোজন, ‘২০২১ সালে যত সংখ্যক বিধানসভা আসনে তৃণমূল জয়ী হয়েছিল, ২০২৬ সালে তা আরও বাড়বে।’ কোন সূত্রে এই সাফল্য আসবে, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মমতা। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেছেন, ‘একদিকে কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানে আমরা উন্নতি করছি। আর তখনই সিপিএমকে বন্ধু বানিয়ে বাংলার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে বিজেপি। এর যোগ্য জবাব বাংলার মানুষ দেবেন, এটাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’
বাংলায় ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ চড়ছে। আগামী মাসে দুর্গোৎসবের উন্মাদনার আগেই বাংলার ভোটযুদ্ধের ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলায় তিনটি জনসভা করে ফেলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। পুজোর আবহে ফের তাঁর আগমন হতে চলেছে। তৃণমূলের ভাষায় তাঁরা ‘ডেইলি প্যাসেঞ্জার’ এবং ‘ভোটপাখি’। তাঁদেরই উদ্দেশে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল জোড়াফুল ব্রিগেড। বৃহস্পতিবার কলকাতার মেয়ো রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে মমতার দৃপ্ত কণ্ঠ, ‘বিনা যুদ্ধে আমরা এক ইঞ্চি জমি ছাড়িনি। ছাড়বও না। ওরা ১ হলে আমরা ১০০। আগামী নির্বাচনে আমাদের আরও আসন বাড়বে। কারণ আমরা উন্নয়ন করি।’
বাংলার উন্নয়নের কর্মকাণ্ডে বিজেপি নানাভাবে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে— এই অভিযোগ নতুন নয়। কখনও কেন্দ্রের অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা, আবার কখনও অশান্তি ছড়ানোর পরিকল্পনা। সেই প্রসঙ্গ টেনেই মমতা বললেন, ‘কেন্দ্রে একটি ললিপপ সরকার। এরা বিডিও, এসডিও, ডিএম আর পুলিসকে ভয় দেখাচ্ছে—চাকরি কেড়ে নেবে বা জেলে ভরে দেবে বলে। নির্বাচন কমিশন আসে আর যায়, কিন্তু রাজ্য সরকার থাকে। কমিশনের আয়ু মাত্র তিন মাস। গায়ের জোরে কিছু হবে না। দুর্নীতির ভাণ্ডার আছে। সব ফাঁস করে দেব।’ এসআইআর নিয়ে মমতার চ্যালেঞ্জ, ‘জীবন থাকতে কারও ভোটাধিকার ছিনিয়ে নিতে দেব না। যদি কেউ সমীক্ষার নামে আসে, কোনও তথ্য দেবেন না।’ একইসঙ্গে ভোট এলে এজেন্সির অতি সক্রিয়তা নিয়েও তোপ দেগেছেন নেত্রী। তাঁর আক্রমণ, ‘নির্বাচন এলেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাপাদাপি বাড়ে। ইডি-সিবিআই এখন বিজেপির হয়ে কাজ করছে। কিন্তু আমি যখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলাম, কোনওদিন দেখিনি কেন্দ্রীয় এজেন্সি পলিটিক্যাল পার্টি হয়ে গিয়েছে।’ ‘হাই লোডেড ভাইরাস’, ‘সেলফিশ জায়ান্ট’-এর মতো কড়া শব্দে বিজেপিকে এদিন বিদ্ধ করেছেন মমতা। এমনকী ‘দুনম্বরি’ বলতেও দ্বিধা করেননি। লাখো ছাত্রছাত্রীর সামনেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আদালতে গিয়ে নিয়োগ আটকে দিচ্ছে। আবার ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে দিচ্ছে না। যেখানে বিজেপির বন্ধু হয়েছে সিপিএম।’ এদিন ছাত্র সমাবেশের মঞ্চ এবং পরিবেশ ছিল বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার প্রেক্ষাপটে। ছাত্রছাত্রীদের প্ল্যাকার্ডেও ছিল বাঙালি অস্মিতা। এমনকী সভামঞ্চের সামনে জ্বলজ্বল করেছে ‘জয় বাংলা’ হোর্ডিং। তরুণ ব্রিগেডের উদ্দেশে মমতার আহ্বান, সাধারণ-গরিব মানুষের পাশে আমরাই ছিলাম। আছি। থাকবও।’